দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোরের আলিম ও ইনছানুল মেম্বর হত্যা মামলায় ১৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড
কাগজ সংবাদ :
Published : Thursday, 12 October, 2017 at 1:03 AM, Update: 12.10.2017 6:43:46 AM
যশোরের আলিম ও ইনছানুল মেম্বর হত্যা মামলায় ১৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডযশোরের কিসমত নওয়াপাড়ার আব্দুল আলিম ও হালসা গ্রামের ইনছানুল হক মেম্বর হত্যা মামলায় ১৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দিয়েছে আদালত।
বুধবার সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা ও অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক ইমান আলী শেখ আলাদা রায়ে এ সাজা দিয়েছেন। আব্দুল আলিম হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলো কিসমত নওয়াপাড়ার ইয়াকুব মোল্লার ছেলে সিরাজ, মৃত মোজাম ড্রাইভারের ছেলে মজিদ, বেলায়েতের ছেলে মাহমুদুর রহমান, আজিজ ড্রাইভারের ছেলে আমিনুর, দুলালের ছেলে নাজির ও শেখহাটির বাহার আলীর ছেলে মিল্টন এবং ইনছানুল হক হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্তরা হলো চান্দুটিয়া গ্রামের মোসলেম গাজীর ছেলে আবু বক্কার ওরফে বাক্কার, বালিয়া ভেকুটিয়া গ্রামের মৃত আহম্মদ সরদারের ছেলে এনামুল হক সরদার, আমিনউল্লাহর ছেলে কবির বেপারি, লিয়াকত আলীর ছেলে বিপ্লব মিয়া, ভেকুটিয়া কলোনির আব্দুল কাদের মিয়ার ছেলে তাহের হোসেন, ফরিদপুর গ্রামের মোকছেদ আলীর ছেলে বাবু, আলী আহম্মদের ছেলে আনিচ, চানপুর গ্রামের মেহের আলী মন্ডলের ছেলে কামারুল মন্ডল ও আলমনগরের মাওলা বক্সের ছেলে আজম ফকির। সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বিশেষ পিপি এসএম বদরুজ্জামান পলাশ ও অতিরিক্ত পিপি এএসএম নজরুল ইসলাম বকুল।  
মামলায় জানা গেছে, ১৯৯৭ সালের ২৫ নভেম্বর রাত পোনে ১০টার দিকে আসামি মিল্টন একটি মোটরসাকেলে গিয়ে আব্দুল আলিমকে তার বাড়ি থেকে নিয়ে উপশহর ট্রাক সমিতির চেকপোস্টের উত্তর পাশে নিয়ে যায়। আলিম মোটরসাইকেল থেকে নেমে আইয়ুব আলীর দোকানে যেয়ে বসে। এরপর পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আসমিরা তাকে ঘিরে ধরে। আলিম বুঝতে পেরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আসামিরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করলে রাস্তার উপর পড়ে যায়। আসামিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আলিমের মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে নিহত আলিমের মা জহুরা বেগম বাদী হয়ে পরের দিন কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শহিদুল ইসলাম শাহীন তদন্ত শেষে ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন ৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন।
এ মামলার দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক হত্যার সাথে জড়িত থাকায় ৬ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেকের ৬ মাস করে সশ্রম করাদন্ডের আদেশ দেন। হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় রায়ে আাসামি আরিফ ও মাসুদুল ইসলামকে খালাস দেয়া হয়েছে।  অপর আসামি সাজিদ মামলা চলাকালে মৃত্যুবরণ করায় পূর্বেই তাকে অব্যাহতি দেয় হয়।
অপরদিকে, যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের মেম্বর ইনছানুল হক ২০০৫ সালের ৮ জুলাই রাতে ঝিকরগাছার কায়েমকোলা বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে ছেলে জুয়েলকে সাথে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে হালাসা-ঘোড়দহ গ্রামের মাঠের মধ্যে পৌছালে একদল ডাকাত রাস্তায় দড়ি টানিয়ে তাদের গতিরোধ করে। এরপর তাদের মারপিট করে বেধে রাখে ডাকাতরা। এরমধ্যে একই কায়দায় কয়েকজন পথচারী আটক করে বেধে রাখে। জুয়েল কিছুক্ষন পর দেখতে পায় তার পিতা তাদের সাথে নেই। পরে ডাকাতরা তাদের রেখে চলে গেলে খোজাখুজি করে পাশের বাগানে একটি গাছের সাথে বাধা অবস্থায় পাওয়া যায়। ভ্যানে করে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পথে ইনছানুল হক মারা যায়। এ ব্যাপারে নিহতের ছেলে ইয়ারুল হক জুয়েল বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে ঝিকরগাছা থানায় একটি হত্যা ও ডাকাতি মামলা করেন। এ মামলার তদন্ত শেষে ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় ৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক (ওসি) বেলায়েত হোসেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে হত্যা ও ডাকাতির সাথে জড়িত থাকায় ওই ৯ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড, ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ৬ মাস করে সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন।
এদিকে আব্দুল আলিম হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত মিল্টন, নাজির, আমিনুর এবং ইনছানুল হক হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এনামুল হক, করিব, আনিচ, বিপ্লব মিয়া, কামারুল মন্ডল, আজম ফকির পলাতক রয়েছে। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft