শিক্ষা বার্তা
নির্বাচনী পরীক্ষা
প্রথম দিনেই হোঁচট খেলো যশোর বোর্ড
ফয়সল ইসলাম :
Published : Thursday, 12 October, 2017 at 1:11 AM, Update: 12.10.2017 7:17:21 AM
প্রথম দিনেই হোঁচট খেলো যশোর বোর্ডদ্বিতীয় বা তৃতীয় কোন পক্ষ নয়, যশোর শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষই এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার বাংলা প্রথমপত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছে। বোর্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এ প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হয়েছে।
বুধবার সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আধা ঘণ্টা আগেই ওয়েবসাইটের নোটিশ বোর্ডে প্রশ্নপত্রটি আপলোড করা হয়। এরপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ প্রশ্নপত্র ডাউনলোড করে তা প্রিন্ট দিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করেছেন।
একদিকে প্রশ্ন ফাঁস, অন্যদিকে দেরিতে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করায় পরীক্ষা গ্রহণে বিশৃংখলার সৃষ্টি হয়। যশোর শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ১০ জেলায় প্রায় আধা ঘণ্টা থেকে ১ ঘন্টা দেরিতে অর্থাৎ বেলা ১১টায় পরীক্ষা শুরু হয়।
নতুন পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করতে গিয়ে গুলিয়ে ফেলেছেন শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। তবে বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল আলীম বলছেন, সার্ভারের সমস্যার কারণে বাধ্য হয়ে ওয়েবসাইটে প্রশ্ন আপলোড করা হয়েছে।  
বেশ ঢাকডোল পিটিয়ে এবারই প্রথমবারের মতো এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র অনলাইনের মাধ্যমে পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নেয় যশোর শিক্ষা বোর্ড। এটা প্রশ্ন ব্যাংক পদ্ধতির অংশ হিসেবে নয়া উদ্যোগ। তবে বোর্ড কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে সার্ভারে প্রশ্নপত্র আপলোড করার কথা। কিন্তু তাতে তারা ব্যর্থ হয়।
প্রতিষ্ঠান প্রধানরা সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও বোর্ডের নির্দিষ্ট ওয়েব সার্ভারে ঢুকতে না পারায় প্রশ্নপত্র ডাউনলোড করতে পারেন না। এরপর তারা বোর্ডে যোগাযোগ করেন। বোর্ড কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়, সার্ভার সমস্যার কারণে  ওয়েব সাইটের উন্মুক্ত নোটিশ বোর্ডে প্রশ্নপত্র আপলোড করা হয়েছে। সেখান থেকে ডাউনলোড করে প্রিন্ট দিয়ে পরীক্ষা নিতে হবে। এক্ষেত্রে যা ঘটেছে তা হচ্ছে গোপনীয়ভাবে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করার নিয়ম থাকলেও তার ব্যত্যয় ঘটেছে। শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ নিজেই প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবক জানান, শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষের চরম অব্যবস্থাপনার একটি দৃষ্টান্ত এটি। নতুন পদ্ধতি চালুর আগে বিষয়টি নিয়ে আরও সচেতন হওয়া দরকার ছিলো। প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ নেয়ার কথা বলা হলেও বোর্ড কর্তৃপক্ষ নিজেই তা ফাঁস করে দিলো। উন্মুক্ত নোটিশ বোর্ডের প্রশ্নপত্র যে কেউ ডাউনলোড দিতে পারে। অনেকে প্রশ্নপত্র ডাউনলোড দিয়েছে। প্রশ্নফাঁস হয়ে গেছে।
যশোর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিখিল রঞ্জন চক্রবর্তি গ্রামের কাগজকে জানান, পরীক্ষা গ্রহণের আগে অর্থাৎ সকাল ৭টার পর পরই চেষ্টা করা হয় বোর্ডের নির্দিষ্ট সার্ভার থেকে প্রশ্নপত্র ডাউনলোড করার। কিন্তু কোন ক্রমেই তা সম্ভব হয়নি। বোর্ড কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকার যোগাযোগ করা হয়। তারা পরীক্ষা শুরু হওয়ার আধা ঘণ্টা আগে ওয়েব সাইটের উন্মুক্ত নোটিশ বোর্ডে প্রশ্ন আপলোড করা হয়েছে বলে জানালে সেখান থেকে ডাউনলোড করা হয়। প্রশ্নপত্র ফটোকপি করে সকাল সাড়ে ১০ টার পর পরীক্ষা শুরু করা হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোন গাফিলতি ছিলো না। প্রশ্নপত্র না পাওয়ার বিষয়টি বোর্ড কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় দায়ী।  
যশোর এমএসটিপি গালর্স স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খায়রুল আনাম বলেন, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে সার্ভারে প্রশ্নপত্র পাওয়ার কথা। সার্ভারে ঢুকলে প্রতিষ্ঠান প্রধানের মোবাইল নম্বরে একটি পাসওয়ার্ড আসবে। সেটি দিলে প্রশ্নপত্র ওপেন হবে। কিন্তু সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত সার্ভারে প্রশ্ন পাওয়া যায়নি। বোর্ডে যোগাযোগ করলে জানানো হয়, ওয়েবসাইটের নোটিশে আপলোড করা হয়েছে। সেখান  থেকে আমরা প্রশ্নপত্র ডাউনলোড দিয়ে প্রিন্ট দিয়েছি। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে পরীক্ষার্থীদের হাতে প্রশ্ন দিতে পেরেছি। যথাসময়ে প্রশ্ন না পাওয়ায় চরম টেনশনে ছিলাম। শিক্ষার্থীরা বসেছিল, ঠিক সময়ে প্রশ্নপত্র দিতে পারিনি।
জানতে চাইলে বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল আলীম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, একই সাথে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সার্ভারে প্রবেশের চেষ্টা করায় সমস্যার সৃষ্টি হয়। সার্ভার বিকল থাকায় বাধ্য হয়ে শিক্ষাবোর্ডের ওপেন নোটিশ বোর্ডে প্রশ্নপত্র আপলোড করা হয়। সেখান থেকে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা প্রশ্ন প্রিন্ট দিয়ে পরীক্ষা নিয়েছে। দেরিতে পরীক্ষা শুরু হওয়ায় সময় পুষিয়ে দেয়া হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, পরীক্ষার অল্প সময় আগে প্রশ্ন আপলোড করা হয়েছে। সেই সময় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার হলে ছিল। এজন্য তারা ফাঁস হওয়া প্রশ্ন হাতে পায়নি।
উল্লেখ্য, যশোর শিক্ষাবোর্ড প্রশ্নব্যাংক পদ্ধতি চালু করেছে। সার্ভারে আপলোড করা প্রশ্নপত্র স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা পাসওয়ার্ড ও মোবাইল ফোনের ম্যাসেজের মাধ্যমে ওপেন করে প্রিন্ট দিতে পারবে মর্মে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। মূলত প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। উদ্যোগের প্রথম দফায় ধাক্কা খেয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।





সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft