জাতীয়
আগ্রায় চোখ জুড়ানো অনিন্দ্য সুন্দর কারুকাজে তৈরি আকবর সমাধী
দেওয়ান মোর্শেদ আলম :
Published : Thursday, 12 October, 2017 at 1:15 AM, Update: 12.10.2017 6:43:41 AM
আগ্রায় চোখ জুড়ানো অনিন্দ্য সুন্দর কারুকাজে তৈরি আকবর সমাধী সুপ্রিয় পাঠক, সেদিন ছিল ২৪ এপ্রিল। তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রী। গা পুড়ে যাচ্ছিল। তবুও আগ্রার সেকান্দ্রারার আরেক অমর কীর্তি সম্রাট আকবরের সমাধী দর্শনের লোভ আর আকাঙ্খা দাবদাহ উপেক্ষা করে সামনে চলা। ২২ এপ্রিল দিনভর মন্ত্রমুগ্ধের মত দেখা সম্রাট শাহজাহানের অমর কীর্তি তাজমহল ও ২৩ এপ্রিল দেখা তার দুঃখগাঁথা আগ্রাফোর্টের অবস্থান দেড় কিলো মিটারের মধ্যে হলেও আকবরের সমাধীস্থল ওই দুটি স্থাপনা থেকে  দুরে। এটা আগ্রা শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দুরে শহরতলীতে। চারদিকে চারটি শ্বেত পাথরের তৈরি মিনার দিয়ে বেষ্টিত অনেকটা তাজমহলের মতো। সমাধীর পাশে মাঠে অনেক পোষ্য হরিণ চড়ে বেড়ায়। পর্যটকদের দেখে মোটেই ভয় পায় না এরা। সমাধী সৌধটি বিশাল আকৃতির চারতলা বিশিষ্ট দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। যেন না দেখলে অপূর্ণতা গ্রাস করে।
কোলকাতা থেকে আগ্রা যেতে হলে নিউ দিল্লি হয়েই আসতে হয়। দিল্লি থেকে এন এইচ ২ বা জিটি রোড ধরে এসে বাঁদিকে মথুরা পেরিয়ে ডান দিকে বেঁকে বিজপুর রোডে সিকান্দ্রা।  তৃতীয় মোঘল সম্রাট আকবর বাদশাহ (১৫৫৫-১৬০৫) নিজেই নিজের সমাধী ক্ষেত্রের জায়গা বেছে নেন। এমনকি কিছু কিছু প্রস্তুত পর্বের কাজও তিনি ১৬০০ সালে শুরু করে দেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর  ছেলে চতুর্থ মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ১১৯ একর জমির উপর সমাধী সৌধের কাজ ১৬০৫ সালে শুরু করে ১৬১৩ সালের মধ্যে শেষ করেন। রাস্তার থেকে প্রধান প্রবেশ পথ। দক্ষিণ দ্বার সব থেকে বড় ও সুন্দর। চার দিকে চারটি শ্বেত পাথরের তৈরি মিনার আছে। অনেকটা তাজমহলের মতোই দেখতে। মিনারটা অনেকটা ছাতার মত। বাকিটা পাথরের তৈরি। কিন্তু অনিন্দ্য সুন্দরভাবে কারুকাজ করা। সূক্ষ্ম কারুকাজ করার জন্য শ্বেত পাথর আর কালো জেড পাথর ব্যবহার করা হয়েছিল।
এই প্রধান প্রবেশ পথ তৈরি করা হয়েছিল অনেকটা ফতেহপুর সিক্রির বুলন্দ দরওয়াজার অনুকরণে। প্রধান প্রবেশ পথ দিয়ে ঢুকে বেশ খানিকটা হেঁটে সমাধি স্থলে যেতে হয়। এই রাস্তার দু’ধারে আছে চোখ জুড়ান বিশাল সবুজ মাঠ। এই মাঠে অনেক পোষ্য হরিণ চড়ে বেড়ায়, যা দেখলে চোখ জুড়ায়। বেশ সময় কাটে এদিকে চোখ দিয়ে। এরা এতটাই মিশুক যে পর্যটকদের দেখে মোটেই ভয় পায় না।  সমাধী সৌধটির চারটি তলা বেশ বড়। এক একটা দিক ১০৫ কিলোমিটার লম্বা। প্রধানতঃ লাল পাথরের তৈরি এই সৌধটি ধাপে ধাপে, পিরামিডের চারতলা পর্যন্ত ওঠে গেছে। সামনে দরজার আশেপাশের জায়গা গুলো শ্বেত পাথরের কারুকার্য করা। ছাদের ওপরের ছোট ছোট মিনারগুলোও শ্বেত পাথরের ছাতা দিয়ে ঢাকা।
সমাধী সৌধে ঢুকেই দেখা যাবে সুন্দর করে আঁকা বিভিন্ন জ্যামিতিক আকার, ফুল ও অন্যান্য প্যাটার্ন। কোনটা ঘন নীলের ওপর সোনালী রঙ বা কোনটা হালকা রঙের ওপর ঘন লাল দিয়ে ফোটানো সুন্দর নকশা। দেয়ালে ফাঁটল ধরার জন্যে নকশা খানিকটা নষ্ট হয়ে গেছে। ফাঁটলগুলো সিমেন্ট বালি দিয়ে ভর্তি করলেও নকশাগুলোর সংস্কার হয়নি। মুসলিম রীতি অনুযায়ী এই বেদীতে মরদেহ থাকে বেদীর ঠিক নিচেই একটু গভীরে। আমরা অনেকক্ষণ এখানে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম, আর ভাবলাম দুর্দান্ত প্রতাপশালী তৃতীয় মোঘল সম্রাট আকবর বাদশাহর কথা। তিনি চলে গেছেন। রেখে গেছেন তাঁর স্মরণীয় নানা অমর কীর্তি।
বেশ কিছু সময় আনমনে ঘুরে বেড়ালাম। চোখে পড়ল উত্তর দিকের প্রবেশ পথের ভগ্ন দৃশ্য। ঘুরতে ঘুরতে বিকেল ৫টা। দেখলাম সময় হয়ে গেছে বেরিয়ে যাওয়ার। ততক্ষণে আলো কমে এসেছে। ম্লান হয়ে যাওয়া দক্ষিণের দ্বার দিয়ে বেরিয়ে এলাম বাস্তব জগতে। আর দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম আগ্রার ক্যান্ট রেল স্টেশনে।






সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft