সম্পাদকীয়
প্রাথমিকে ঝরে পড়া রোধে স্কুল ফিডিংই অন্যতম উপায়
Published : Friday, 10 November, 2017 at 7:28 PM
উন্নয়নশীল দেশগুলোয় স্কুল ফিডিং একটি জনপ্রিয় কর্মসূচী। যেখানে ক্লাসরুমে খাবার প্রদান করা হয় আবার শিক্ষা ক্ষেত্রেও এর সুফল পাওয়া যায়। বিশ্বব্যাংকের মতে, স্কুলগুলো পুষ্টিকর খাবার প্রদানের ক্ষেত্র হলে সেখানে বিভিন্ন রকমের পুষ্টি বিষয়ক জ্ঞান ছড়িয়ে দেয়ার কাজটিও সফলভাবে করা যায়। পাশাপাশি স্কুলে ছাত্রদের স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যবিধির বিভিন্ন অনুশীলন করানো সম্ভব। বাংলাদেশেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমাতে ২০০১ সালে স্কুল ফিডিং চালু হয়। ১৬ বছরে মাত্র ১৭ শতাংশ শিশুকে এর আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এখনও স্কুল ফিডিংয়ের বাইরে রয়ে গেছে ৮৩ শতাংশ শিশু। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১২ সালে ঝরে পড়ার হার ছিল ২৬.২ শতাংশ, ২০১৩ সালে তা কমে দাঁড়ায় ২১.৪ শতাংশে। এরপর চার বছরে মাত্র ১ শতাংশের কিছু বেশি কমে এখন তা ২০ শতাংশে এসেছে। পরিসংখ্যানটি নিঃসন্দেহে নিরাশ হওয়ার মতো। দেশের মানুষ রান্না করা খাবারে অভ্যস্ত হলেও কোন কোন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া কমাতে স্কুল ফিডিংয়ে দেয়া হচ্ছে বিস্কুট। প্রতিদিন একই বিস্কুটে একঘেয়েমি এসে গেছে শিশুদের। এ কারণে ঝরে পড়ার হারও আশানুরূপভাবে কমছে না। অথচ আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটানসহ এশিয়ার প্রায় সব দেশেই প্রাথমিকের শিশুদের স্কুল ফিডিং হিসেবে রান্না করা খাবার দেয়া হয়। এমনকি আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোতেও শতভাগ শিশুদেরই গরম খাবার দেয়া হয়। আবার ব্রাজিলে পাঁচ কোটি শিশু রয়েছে স্কুল ফিডিংয়ের আওতায়, যারা রান্না করা খাবার পায়। আমাদের দেশেও প্রাথমিকে শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত ও ঝরে পড়া রোধ করতে স্কুল ফিডিংই হতে পারে অন্যতম উপায়Ñ এমনটা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। এমনকি উপবৃত্তির চেয়েও স্কুল ফিডিং বেশি জরুরী বলে মনে করেন তারা। শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতির হার বৃদ্ধি, ঝরে পড়া কমানো ও শিশুদের দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদা পূরণে রান্না করা ফিডিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ।   
বাংলাদেশের অবস্থান ভিন্ন হলেও বিশ্বের বহু দেশে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তি স্কুল ফিডিংয়ে এগিয়ে আসছে। ভারতে অক্ষয়পাত্র ফাউন্ডেশন বিভিন্ন রাজ্যের প্রায় ১৫ লাখ শিশুকে প্রতিদিন রান্না করা খাবার পৌঁছে দেয়। তারা প্রায় ২০টি ‘সেন্ট্রাল কিচেনের’ মাধ্যমে এই খাবার রান্না করে। এক মাসে তারা শিশুদের প্রায় ১৮ পদের খাবার দেয়। এর সঙ্গে আবার দুধের প্যাকেটও দেয়া হয়। আমাদের দেশে বহু সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান রয়েছে তারাও কোন কোন অঞ্চলে এই ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে।
দেড় দশকেরও বেশি আগে এই কার্যক্রম শুরু কিন্তু এখনও একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন সম্ভব হয়নি। অথচ সবার আগে দরকার একটি নীতিমালা। পাশাপাশি এর জন্য একটি সেল গঠন, উপদেষ্টা কমিটি গঠন, বিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা কেন্দ্র চালু করার কথা শোনা গিয়েছিল। কিন্তু এর কোনটাই পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। কোন কর্মসূচী সফল করতে হলে নীতিমালাসহ প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগেরই বাস্তবায়ন জরুরী। এক্ষেত্রে অভিভাবকসহ সব মহলের সচেতনতা দরকার। এটা করা সম্ভব হলে সাফল্য আসবেই। তখন কর্মসূচীর ক্ষেত্রে হতাশাজনক পরিসংখ্যান উঠে আসবে না।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft