শিক্ষা বার্তা
অসহায় যশোর শিক্ষাবোর্ড!
এম. আইউব :
Published : Saturday, 11 November, 2017 at 4:57 AM
অসহায় যশোর শিক্ষাবোর্ড! অসহায় হয়ে পড়েছে যশোর শিক্ষাবোর্ড! বিভিন্ন কেন্দ্রে নানা ধরনের অনিয়ম হলেও যেন কিছুই করার নেই বোর্ড কর্তৃপক্ষের। অনিয়মের পক্ষে স্থানীয় এমপিদের সুপারিশের কারণে না কি বোর্ড কিছুই করতে পারছে না। আর এ কারণে বছরের পর বছর খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকার বেশকিছু পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রকাশ্যে অনিয়ম হয়েই যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে পরীক্ষার্থীদের ওপর। সাথে অন্যান্য স্কুলেও। এতকিছুর পরও শিক্ষাবোর্ডের নিষ্ক্রিয়তায় অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। তারা যশোর শিক্ষাবোর্ডকে নিয়ে বর্তমানে সমালোচনায় মুখর। অভিযুক্ত কেন্দ্রগুলোর প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখার দাবি তুলেছেন শিক্ষক এবং অভিভাবকেরা।
যশোর শিক্ষাবোর্ডের অধীন চলতি জেএসসি পরীক্ষায় মোট ২শ’ ৬৭ টি কেন্দ্র রয়েছে। এ সংখ্যা কমবেশি রয়েছে এসএসসি ও এইচএসসিতে। এসবের মধ্যে আনুমানিক অর্ধশতাধিক কেন্দ্রে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ড সংঘটিত হচ্ছে বছরের পর বছর। যদিও এ ধরনের অভিযুক্ত কেন্দ্রের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা শিক্ষাবোর্ড কর্মকর্তারা দিতে পারেননি। শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযুক্ত কেন্দ্রের সংখ্যা খুবই কম।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, শিক্ষাবোর্ডের অধীন ১০ জেলায় অর্ধশতাধিক কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে পরীক্ষার্থীদের বিশেষ ‘সুযোগ-সুবিধা’ দেয়া হচ্ছে। পাশের হার বৃদ্ধি, জিপিএ-৫ বাড়ানো এবং জুনিয়র বৃত্তি লাভের আশায় এসব করা হয়ে থাকে বলে সূত্র জানিয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন এলাকার কেন্দ্র সচিব, শিক্ষক, এমনকী অভিভাবকরা শিক্ষাবোর্ডে লিখিত অভিযোগ দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেগুলো ব্যবস্থা নেয়াতো দূরের কথা, চোখেও দেখছেন না।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করলে তারা নানাভাবে এড়িয়ে যাচ্ছেন বছরের পর বছর। শিক্ষাবোর্ড কর্মকর্তারা অভিযোগকারীদের এমনভাবে বলছেন যেন তাদের ‘হাইকোর্ট’ দেখানো হচ্ছে। অভিযুক্ত কেন্দ্র সম্পর্কে তাদের সাথে কথা বললে তারা বলছেন, জেলা প্রশাসক কিংবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে যোগাযোগ করতে। আবার কখনও কখনও অভিযুক্ত কেন্দ্রের কাছাকাছি কেন্দ্রের সচিবকে বোর্ডে লিখিতভাবে অভিযোগ করতে বলা হচ্ছে।
একাধিক কেন্দ্র সচিব জানিয়েছেন, তারা যদি অন্য কোনো কেন্দ্রের অনিয়ম সম্পর্কে বোর্ডে লিখিত অভিযোগ করেন তা হলে স্থানীয়ভাবে এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, কিংবা ইউপি চেয়ারম্যানদের রোষানলে পড়তে হয় তাদের। কারণ উল্লেখিত জনপ্রতিনিধিদের কারো কারো সরাসরি ইন্ধনে পরীক্ষা কেন্দ্রে এসব অনিয়ম হয়ে থাকে। অবস্থা এমন পর্যায়ে গেছে যে, এখন আর পরীক্ষার্থীদের নকল করা লাগছে না। অপকর্মটি শিক্ষকরাই করে দিচ্ছেন। কেন্দ্র কিংবা কেন্দ্রস্থ স্কুলের ‘ক্রেডিট’ বৃদ্ধি করতে ঘৃণ্য এ কাজটি করা হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে। অনুসন্ধানে অনিয়ম করা কেন্দ্রের পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনো কোনো এমপিকে তদবির করার প্রমাণ মিলেছে। এসব এমপি এ ধরনের অপকর্মের সাথে নিজেকে জড়িয়ে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন বলে অনেকের অভিমত।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গড়ইখালি আলমশাহী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, চাঁদখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও রাড়–লি আরকেবিকে কেন্দ্র, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার দরগাপুর কেন্দ্র, যশোরের রূপদিয়া ওয়েলফেয়ার একাডেমী কেন্দ্র, যশোর শহরের মধ্যে দু’টি কেন্দ্রসহ অর্ধশতাধিক কেন্দ্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো কেন্দ্রের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা হয়েছে যশোর শিক্ষাবোর্ডে। আবার কোনো কোনো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও লিখিতভাবে বোর্ডকে অনিয়মের বিষয়ে জানিয়েছেন।
অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরও শিক্ষাবোর্ডের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বা হচ্ছে না। মনে হচ্ছে, শিক্ষাবোর্ড কর্মকর্তারা অন্ধ হয়ে গেছেন। তারা চোখে কিছুই দেখতে পারছেন না। কানেও যেন তুলো দিয়েছেন।
কেন অভিযুক্ত কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না সেই সম্পর্কে অনুসন্ধানকালে শিক্ষাবোর্ডের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, খুলনার একজন এমপি অভিযুক্ত একটি কেন্দ্রের পক্ষে তদবির করছেন। এমপি সাহেব অনিয়ম করা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কোনো রকম ব্যবস্থা না নেয়ার আবদার করেছেন! তার বক্তব্য, সামনে নির্বাচন। এখনই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে ‘গণেশ’ উল্টে যেতে পারে। অথচ বর্তমান এই এমপি সামনে আদৌ মনোনয়ন পাবেন কি না সেই সম্পর্কে নিশ্চিত নন তিনি। এমন ধরনের আবদার অন্যান্য এলাকার কতিপয় এমপির রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এমপিদের এ ধরনের অন্যায় আবদারের কারণে শিক্ষাবোর্ড কর্মকর্তারা কোনো রকম টু শব্দ করতে পারছেন না বলে ওই সূত্র জানায়। প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে বোর্ড কর্মকর্তারা কি দুর্নীতিবাজদের কাছে অসহায়? কতিপয় এমপির কারণে বর্তমান সরকারের নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ করা কি অনিশ্চিত হয়ে পড়বে? তা হলে নকলের বিরুদ্ধে সরকারের যুদ্ধ ঘোষণা করার কী হবে? শিক্ষা সচেতনদের দাবি, এখনই বোর্ড কর্মকর্তাদের অনিয়ম বন্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে অস্তিত্ব সংকটে পড়তে হবে যশোর শিক্ষাবোর্ডকে। এক সময় এমন অবস্থার সৃষ্টি হবে, যখন বোর্ডের কোনো নির্দেশনা মানবে না কেউই।
এ ব্যাপারে যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্্েরর কাছে জানতে ফোন করলে তিনি মিটিং-এ আছেন বলে লাইন কেটে দেন। বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল আলীমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা বসবো। দেখি কী করা যায়। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft