অর্থকড়ি
ডজনখানিক সমস্যায় জর্জরিত স্থলবন্দর বেনাপোল
এম. আইউব :
Published : Monday, 13 November, 2017 at 4:03 AM
ডজনখানিক সমস্যায় জর্জরিত স্থলবন্দর বেনাপোলবছরে কমপক্ষে পাঁচ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হলেও দীর্ঘ ৪৫ বছরে কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে। স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ না থাকায় বছরের পর বছর এ অবস্থা চলে আসছে। দিনের পর দিন সমস্যা লেগেই রয়েছে। ফলে, নানা ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে আমদানি-রফতানিকারকরা। অবিলম্বে সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে ক্ষতির মুখে পড়বে বেনাপোল বন্দর।
বন্দরকে কেন্দ্র করে অসংখ্য সমস্যা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী হিসেবে বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফওয়ার্ডিং এজেন্টস এসোসিয়েশন গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু সমস্যা চিহ্নিত করেছে। যার মধ্যে ডজনখানেক সমস্যা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এখনই সমাধানের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেসব সমস্যা সমাধানের জন্যে চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে পাশের গাছ অপসারণ করে যশোর-বেনাপোল সড়ক সংস্কার করা জরুরী। কারণ গাছের ডালে বেধে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। একইসাথে গাছের শিকড়ের কারণে সড়কের মাঝখান উঁচু হয়ে ফাটলের সৃষ্টি হওয়ায় পণ্যবোঝাই ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও দূরপাল্লার পরিবহন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। দিনের পর দিন দুর্ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। এসব কারণে সড়কের মূল অংশের নিচে গাছের শিকড় অপসারণ না করে নির্মাণ করা হলে কয়েকশ’ কোটি টাকা জলে যাবে বলে কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস এসোসিয়েশন এক সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেছে।
বেনাপোল বন্দরে স্থান সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ থেকে সাত হাজার পণ্যবোঝাই গাড়িকে ভারতীয় অংশে ২০-২৫ দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ কারণে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের ভাড়া বাবদ প্রতিদিন গাড়ি প্রতি দু’হাজার ভারতীয় রুপি পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে পণ্যের বিক্রি মূল্য বেড়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
বন্দরের সংকটের আরেকটি হচ্ছে গুদাম সংখ্যা। বর্তমানে ৩০ হাজার মেট্রিকটন ধারণ ক্ষমতার গুদাম রয়েছে এই বন্দরে। অথচ হ্যান্ডলিং করা হচ্ছে দু’লাখ মেট্রিকটন পর্যন্ত। ফলে, প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের পণ্য নষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্যে এখনই কমপক্ষে ২০টি শেড নির্মাণ করা জরুরী হয়ে পড়েছে।
ভারত থেকে আমদানি করা শ’ শ’ নতুন ট্রাকের চেসিস, বাস ও প্রাইভেটকার রক্ষণাবেক্ষণের জন্যে নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় এগুলো রেলওয়ের জায়গায় অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকে। এ কারণে নতুন ইয়ার্ড নির্মাণের দাবি জোরালো হয়েছে।
বৃহৎ এই স্থল বন্দরের নিজস্ব কোনো প্রশাসনিক ভবন নেই। এ কারণে প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল দখল করে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। অবিলম্বে প্রশাসনিক ভবন ও ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। এখানে নেই পর্যাপ্ত ক্রেন এবং ফরকলিফট। ফলে, পণ্য ওঠানামায় সমস্যা লেগেই আছে।
গোটা দেশ যখন ডিজিটালাইজেশনের মহাসড়কে; ঠিক সেই সময় বেনাপোল স্থলবন্দর এনালগে রয়ে গেছে। এখনই বন্দরের কার্যক্রমকে নিরাপত্তার স্বার্থে সিসি ক্যামেরার আওতায় এনে ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর দাবি উঠেছে।
বিশ্বের আন্তর্জাতিক চেকপোস্টগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকলেও বেনাপোলের ক্ষেত্রে সেটি ব্যতিক্রম। এই বন্দর সকাল ৬টা থেকে কমপক্ষে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন ব্যবহারকারীরা। তারা কাস্টমস হাউসে বিএসটিআই অফিস স্থাপনের দাবিও জানিয়েছেন।
জোরালো দাবি উঠেছে, খুলনা-কলকাতা ট্রেন সার্ভিসের যশোর ও বেনাপোলে স্টপেজ দেয়ার। এই দু’স্টেশন থেকে যাতে কিছু যাত্রী ট্রেনে চড়ে ভারতে যেতে পারেন তার আশু ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি তুলেছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ। প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তেমন দাবির কথা তোলেন সাংবাদিক সমাজের প্রতিনিধিরাও।
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, সরকার প্রতি বছর বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে কমপক্ষে পাঁচ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করছে। অথচ সে তুলনায় উন্নয়ন কর্মকান্ড একেবারেই শূন্যের কোটায়।
বন্দরের সমস্যা লেগে থাকার কারণ হিসেবে ব্যবহারকারীরা বলছেন, এখানে স্বতন্ত্র কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। যা অন্যান্য বন্দরে রয়েছে। স্বতন্ত্র বন্দর কর্তৃপক্ষ না থাকায় চাইলেও যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ কারণে বৃহৎ এই বন্দরের জন্যে যতদ্রুত সম্ভব স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ নিয়োগের দাবি তুলেছেন আমদানি-রফতানিকারকরা।
রোববার প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফওয়ার্ডিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা, সাবেক সভাপতি শামছুর রহমান, মতিউর রহমান, মোহা. নুরুজ্জামান, মহসিন মিলন, জামাল হোসেন, নাসির উদ্দিন, আমিনুর রশীদ হারুন প্রমুখ।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft