দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
চৌগাছা মডেল হাসপাতালে দুর্নীতির মডেল ল্যাব টেকনোলজিস্ট সামসুর রহমান
শাহানুর আলম উজ্জ্বল, চৌগাছা (যশোর) থেকে :
Published : Tuesday, 14 November, 2017 at 4:57 AM
চৌগাছা মডেল হাসপাতালে দুর্নীতির মডেল ল্যাব টেকনোলজিস্ট সামসুর রহমানদশবার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত যশোরের চৌগাছার ৫০ শয্যা মডেল হাসপাতালের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) সামসুর রহমানের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে একই কর্মস্থলে চাকরি করার সুবাদে দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে সোমবার দুপুরেও দুর্নীতি হাতেনাতে ধরা পড়ে। তার দুর্নীতির বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার সেলিনা বেগম। দুর্নীতির বিষয়ে তিনি বিশেষভাবে খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।
একাধিক সূত্র জানায়, ১৯৯০ সালের ১১ ডিসেম্বর সামসুর রহমান চৌগাছার ৫০ শয্যা মডেল হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) হিসেবে যোগদান করেন। তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী হয়েও তিনি হাসপাতালের প্যাথলজিকে নিজের ইচ্ছেমত চালাচ্ছেন। ফলে, প্যাথলজিকে ঘিরেই সরকারি লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করে চলেছেন তিনি।
সোমবার দুপুরে তথ্য আসে হাসপাতালের প্যাথলজিতে বসে তিনি অনিয়ম করছেন। বাইরে থেকে যে সকল রোগী রক্ত, প্রসাব, পায়খানা পরীক্ষা করতে আসে তাদেরকে সরকার নির্ধারিত মূল্য দিয়ে করানো হয়। পরীক্ষার নাম, নির্ধারিত ফি, রোগীর নাম ঠিকানা লিখে রসিদ দেয়া হচ্ছে। অথচ রসিদ বইয়ের মুড়িতে সেই টাকা তোলা হচ্ছেনা। অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে দ্রুত প্যাথলজিতে গিয়ে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার সেলিনা বেগমকে এ বিষয়টি জানানো হলে তিনি দ্রুত প্যাথলজিতে চলে আসেন। এ অবস্থায় দুর্নীতিবাজ সামসুর রহমানের কাছে কর্মকর্তা জানতে চান এমন কাজটি কেনো করছেন। কিন্তু ওই কর্মচারী সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি কেবল ভুল হয়েছে বলে জানান।
এদিকে, খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, প্রতিদিন শ’শ’ রোগী হাসপাতালের প্যাথলজিতে নির্ধারিত ফিস দিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা করান। সূত্র জানায়, পরীক্ষার জন্যে ফি ধার্য করা হয়েছে, সিবিসি/সিপি(টি,ডিসি,এইচবি, ইএসআর) ১শ’ ৫০ টাকা, এইচবি-৩০ টাকা, ইএসআর ৩০ টাকা, টিসিডিসি ৬০ টাকা, প্লাটিলেট কাউন্ট ৫০ টাকা, ব্লাড ফর এমপি ২০ টাকা, ইউরিন আর/ই ২০ টাকা, স্টল আর/ই ২০ টাকা, ইউরিন প্রেগনেন্সি টেস্ট ৮০ চৌগাছা মডেল হাসপাতালে দুর্নীতির মডেল ল্যাব টেকনোলজিস্ট সামসুর রহমানটাকা, ব্লাড গ্রুপ (এবিও) এবং আরএইচডি ফ্যাক্টর ৮০ টাকা, ব্লাড ইসক্রিনিং টেস্ট  জেনারেল ওয়ার্ড ১ শ’ টাকা, ব্লাড ইসক্রিনিং টেস্ট  কেবিন) ৫শ’ টাকা, ব্লাড ইসক্রিনিং টেস্ট (আউটডোর) ৫শ’ টাকা, এএসও টাইটার ১শ’ টাকা, আরএ টেস্ট ৬০ টাকা, সিআরপি টেস্ট ১শ’ ৫০ টাকা, ভিডিআরএল টেস্ট ৬০ টাকা, ওয়াইডাল টেস্ট ৮০ টাকা, এস. ব্লিরুবিন ৬০ টাকা,  এস ক্রিএটিনাইন ৫০ টাকা, এস. কোলস্টোরেল ৫০ টাকা, এসজিপিটি ৭০ টাকা, এসজিওটি ৭০ টাকা,  ব্লাড সুগার (ফাস্টিং) ৬০ টাকা ও ব্লাড সুগার (র‌্যান্ডম) ৬০ টাকা। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রোগীরা সরকার নির্ধারিত ফিস দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেও হাসপাতালের মুড়ি বইতে সঠিকভাবে তা উঠছে না। দেখা গেছে, রোগী টেস্ট ফি জমা দিয়েছে ১শ’৫০ টাকা। কিন্তু মুড়ি বইতে দেখানো হয়েছে ৩০ টাকা। একাধিক সূত্র জানান, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব)  সামছুর রহমান রোগীকে সঠিক রসিদ দিলেও তার বিপরীত মুড়িতে রোগীর নাম ঠিকানা, পরীক্ষার বিবরণ এমন কী পরীক্ষা ফির স্থান ফাঁকা রাখছেন। পরীক্ষা শেষে ফাঁকা মুড়ি বই নিয়ে শুরু হয় তার দুর্নীতির কারসাজি। ইচ্ছেমত রোগীর নাম বসিয়ে পরীক্ষা ফি বাবদ ২০-৩০ টাকা মুড়ি বইতে উঠিয়ে অর্থ আত্মসাত করছেন। বিষয়টি প্যাথলজির সহকারী জানলেও রহস্যজনক কারণে নিরব ভূমিকা পালন করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একজন কর্মচারী জানান, তিনি নিজের স্বেচ্ছাচারিতায় প্যাথলজি চালান। সহকারীকে চাপ প্রয়োগ করে মুড়ি বই খালি রাখতে বাধ্য করেন। হাসপাতালে আসা রোগী আবুল কালাম বলেন, মডেল হাসপাতালে প্রকাশ্যে দুর্নীতি হচ্ছে জেনে মর্মাহত হলাম। সরকারি টাকা আত্মসাতের এত সাহস কীভাবে পাচ্ছে। নিশ্চয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই কারসাজির সাথে জড়িত রয়েছে। এ বিষয়ে হাসপাতালের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) সামসুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ভুল হয়েছে। রোগীদের চাপের কারণে লেখার সময় হয়নি। তিনি বহুদিন ধরেই এই দূর্নীতির সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে বললে তিনি কোন কথার উত্তর দেননি। হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সেলিনা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি সঠিকভাবে জানার জন্যে আমি কয়েকদিন সময় চাচ্ছি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft