শিক্ষা বার্তা
সততার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৪০ হাজার শিক্ষার্থী
এম. আইউব :
Published : Tuesday, 14 November, 2017 at 4:57 AM
সততার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৪০ হাজার শিক্ষার্থীসততার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ৪০ হাজার শিক্ষার্থী। এরা সবাই বৃহত্তর যশোরের বিভিন্ন এলাকার ছাত্রছাত্রী। নৈতিক চরিত্র গঠনে সততার পরীক্ষায় প্রাথমিক ধাপ পার করেছে তারা। এখন সামনে এগুনোর পালা। কর্তৃপক্ষের আশা, আগামী ১৫ থেকে ২০ বছর পর সততার পরীক্ষায় পাশ করা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সমাজ অনেক কিছুই পাবে। দূর হবে যতসব অনৈতিক কর্মকান্ড।
সমাজে নৈতিক অবক্ষয় রোধ করতে দুর্নীতি দমন কমিশন স্কুল পর্যায় থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা শুরু করেছে। এটি শুরু হয়েছে প্রাথমিক ও হাইস্কুল পর্যায়ে। নাম দেয়া হয়েছে ‘সততা স্টোর’। বিভিন্ন স্কুলে চালু করা হয়েছে একটি দোকান। যেখানে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় নানা রকমের জিনিসপত্র রাখা হয়েছে। টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে মূল্য তালিকা। পাশেই রাখা আছে ক্যাশবাক্স। এগুলো দেখভাল করার জন্যে সেখানে নেই কোনো পাহারাদার। জিনিসপত্র এগিয়ে দেয়ার জন্যে কোনো কর্মচারী নেই। পুরোটাই সেলফসার্ভিস। সবকিছু নিজেকেই করতে হবে। মূল্যতালিকা দেখে পণ্য নিয়ে ক্যাশবাক্সে টাকা রেখে চলে যাবে শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত মূল্য থেকে কেউ কোনোভাবেই কম দেবে না। কেউ দেখছে না, তারপরও সবকিছু ঠিকঠাক চলছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, তাদের অধীন ঝিনাইদহ, মাগুরা ও নড়াইল। যশোরসহ চারটি জেলা নিয়ে গঠিত সমন্বিত জেলা কার্যালয়। এই কার্যালয়ের অধীন প্রায় ৬০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চালু করা হয়েছে সততা স্টোর। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান রয়েছে এই তালিকায়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৬০ টির মধ্যে ১৩টি সততা স্টোরে বিনিয়োগ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এই তালিকায় যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলো হচ্ছে, যশোরের বিএম হাইস্কুল, ঝিকরগাছা, চৌগাছা শাহাদৎ পাইলট হাইস্কুল, ঝিনাইদহের মহেশপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয়, ঝিনাইদহের ফজর আলী গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ, শৈলকুপা পাইলট বালিকা বিদ্যালয়, মাগুরার শ্রীপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, যশোরের নওয়াপাড়া শংকরপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বেনাপোল মরিয়ম মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয়, নড়াইল পৌর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাগুরার মহম্মদপুরের, বীরেন সিকদার স্কুল এন্ড কলেজ, লোহাগড়া লক্ষীপাশা বালিকা বিদ্যালয়, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মণিরামপুরের রাজগঞ্জ শহীদ স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয়।
বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা সংগ্রহ করে দুর্নীতি দমন কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন।
সূত্রমতে, নির্বাচিত প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে ১৫ হাজার সাতশ’ ৮৫ টাকা করে দেয়া হয়েছে। কোনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ওই টাকার সাথে নিজেরা কিছু দিয়ে চালু করেছেন ডিপার্টমেন্টাল স্টোর। এসব স্টোর বিক্রি জমে উঠেছে। শিক্ষার্থীরা নিজ গরজে সেখানে গিয়ে মূল্য তালিকা দেখে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন যশোর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের আওতাধীন বৃহত্তর যশোর জেলায় তারা ২১ টি সততা স্টোর খুলবেন। এ পর্যন্ত ১৩টি চালু করতে পেরেছেন।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, দুদকের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াও বৃহত্তর যশোরে আরো ৪৭টির মতো স্টোর চালু হয়েছে। তার মধ্যে যশোর শিক্ষাবোর্ড সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ একটি। এখানে চালু হওয়া সততা স্টোরে মোট ৪৭ প্রকারের পণ্য রাখা হয়েছে। যা শিক্ষার্থীদের অতি প্রয়োজনীয়। এই স্কুলের সততা স্টোরে যেসব পণ্য রাখা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে, ক্লিপ বোর্ড (ডবল), ক্লিপবোর্ড, খাতা (১৬০পৃষ্ঠা), জ্যামিতি বক্স (ম্যাক্স), পেন্সিল বক্স (বড়), পেন্সিল বক্স (ছোট), রং পেন্সিল বক্স (বড়), রং পেন্সিল বক্স (ছোট), মোম রং বক্স, হোয়াইট বোর্ড মার্কার, স্টাপ্লার মেশিন (ছোট), পেন্সিল, স্টিলের স্কেল, প্লাস্টিকের স্কেল (বড়), প্লাস্টিকের স্কেল (ছোট), রাবার, পেন্সিল কার্টার. কালো কলম, লাল কলম, ডিমাই খাতা (১২৪ পৃষ্ঠা), পোস্টার পেপার, আর্ট পেপার, আইকা গাম (ছোট), পেন গাম, সাইন পেন, বোতাম ফাইল, বোতাম ফাইল (ডবল), জেল পেন, কসটেপ, আইডি ফিতা, পকেট টিস্যু, কার্টিজ পেপার, প্রভাতি গ্রাফ পেপার, র‌্যাপিং পেপার, হাইলাইটার, পেন ফ্লুইট, মেরিল, মেরিল লিপজেল, ফিতা, একলেয়ার চকলেট, পালস চকলেট, সেন্টার ফ্রুট, পটেটো চিপস, পাস্তা চিপস, আলুজ চিপস, মি. টুইস্ট ও চানাচুর।
এ বিষয়ে যশোর শিক্ষাবোর্ড সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ লে.কর্ণেল মহিবুল আকবার মজুমদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা বিষয়টি জানাবোঝার চেষ্টা করছে।  
সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফান্ড বৃদ্ধির লক্ষ্যে সততা স্টোরের প্রত্যেকটি পণ্যে সহনীয় মাত্রায় মুনাফা গ্রহণ করা যাবে। তবে, আশার কথা হচ্ছে, গত জুলাই মাস থেকে সততা স্টোর চালু হলেও এখনও পর্যন্ত কোথাও কোনো অঘটন ঘটেনি। সব জায়গার শিক্ষার্থী সততার পরিচয় দিয়েছে বলে দুদক কর্মকর্তারা বলছেন। সবাই যে সততার পরিচয় দিয়েছে সেটি কীভাবে বুঝলেন এমন প্রশ্নের জবাবে কর্মকর্তারা বলেন,‘পণ্য বিক্রি শেষে ক্যাশ মিলে যাচ্ছে। কেবল তাই না, দু’ এক জায়গায় ক্যাশ বেশিও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তারা।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, কোমলমতি এসব শিক্ষার্থী কেবল সততার পরিচয় দিচ্ছে না। তারা শৃংখলাও শিখছে। বেশিরভাগ সততা স্টোরে ছেলে-মেয়ে একসাথে একই সময়ে যাচ্ছে না। ছেলে-মেয়েদের জন্যে রয়েছে পৃথক সময়। সে অনুযায়ী তারা কেনাকাটা করছে।
এসব বিষয়ে দুদক যশোর সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জাহিদ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক চরিত্র গঠন করতে সততা স্টোর চালু করা হয়েছে। সমাজে সততার বড়ই অভাব। এখনই বীজ বপন করতে পারলে আগামী ১৫-২০ বছর পর এর ফল পাওয়া যাবে। তৈরি হবে সৎ মানুষ। এসব দিক বিবেচনা করে বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft