দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
সিডরের দশ বছর পূর্তি আজ
শরণখোলায় টেকসই বাঁধ নির্মাণের নামে প্রহসন চলছে
এস এম তাজউদ্দিন, বাগেরহাট থেকে :
Published : Wednesday, 15 November, 2017 at 4:04 AM
শরণখোলায় টেকসই বাঁধ নির্মাণের নামে প্রহসন চলছে২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘটে যাওয়া  সেই সুপার সাইক্লোন সিডরের দশ বছর পূর্তি আজ। সে বছর টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রলয়ঙ্করী ঘুর্ণিঝড় ‘সিডর’ শরণখোলার সহ¯্রাধিক প্রাণ কেড়ে নেয়। সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে হাজার হাজার পরিবার। বিধ্বস্ত এ জনপদের মানুষ স্বজন হারানোর শোক ভুলে সেদিনের পর থেকে টেকসই বাঁধের দাবিতে গড়ে তোলে আন্দোলন।
সেই আন্দোলন চলতে থাকে বছরের পর বছর। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে ঠিকই। তারপরও আতঙ্ক তাড়া করে ফিরছে শরণখোলাবাসীকে। নামে টেকসই বেড়িবাঁধ বলা হলেও বাস্তব অবস্থাটা একেবারেই ভিন্ন। মাটির কাজ চলমান। অথচ নদী শাসনের কোনো ব্যবস্থা নেই। ব্লক ডাম্পিং করে নদী শাসন না করেই নির্মাণ কাজ শুরু করায় বাঁধ বার বার ধসে পড়ছে। এতে বাঁধ কতটা টেকসই হবে ঘুরে ফিরে  সেই প্রশ্ন উঠে আসছে দুর্যোগের শিকার মানুষের মুখে।
জানা গেছে, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ৬শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘সিএইচডব্লিউই’ নামের চীনের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মাটি ও ব্লক বাঁধ নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে শরণখোলার চারটি ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার একটিসহ মোট পাঁচটি ইউনিয়নে ‘সিইআরপি’ নামে এ প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। প্রায় দু’ বছরে বলেশ্বর ও ভোলানদী বেষ্টিত শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩৫/১ ও ৩৫/৩ পোল্ডারের ৬৫ কিলোমিটার বাঁধের প্রায় ৩০ ভাগ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে- এমনটি দাবি করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বলেশ্বর নদী তীরবর্তী খোন্তাকাটা, রায়েন্দা ও সাউথখালী এলাকা সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ। উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এই তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ২০ কিলোমিটার বাঁধের মাটির কাজ শুরু হয় প্রথমে। কাজ চলমান থাকার মধ্যেই সাউথখালী ইউনিয়নের বগী কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে ও নতুন স্লুইচগেটের উত্তর পাশের দু’টি পয়েন্ট, তাফালবাড়ি লঞ্চঘাট সংলগ্ন স্লুইচগেট, গাবতলা বেড়িবাঁধের দু’টি পয়েন্ট, রায়েন্দা ইউনিয়নের রাজেশ্বর, লাকুড়তলা এবং খোন্তাকাটা ইউনিয়নের পূর্ব খোন্তাকাটা (কুমারখালী) এলাকাসহ প্রায় ১০টি পয়েন্ট বলেশ্বর নদের ঢেউয়ের আঘাতে একাধিকবার ধসে পড়ে। নদী শাসন না করার কারণে প্রবল ঢেউয়ে বাঁধের তলদেশ থেকে মাটি সরে গিয়ে বারবার এমন ধসের সৃষ্টি হচ্ছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কাঙ্খিত বাঁধ নির্মাণ শুরু হওয়ায় বিধ্বস্ত এই জনপদের মানুষ আশায় বুক বেধেছিলো। ভেবেছিলো জলোচ্ছ্বাসে তাদের আর জানমাল কিছুই হারাতে হবেনা। কিন্তু বাঁধের কাজের মান এমন পর্যায়ে, যা তাদেরকে এখন আরো আতঙ্কিত করে তুলেছে।
সাউথখালী ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন তাফালবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ফরিদ খান মিন্টু, উত্তর সাউথখালী ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম হালিম, বগী ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রিয়াদুল পঞ্চায়েত, চালিতাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা আ. রাজ্জাকসহ অনেকেই আক্ষেপ করে বলেন, সিডরের পর সরকারের কাছে শরণখোলার মানুষের প্রাণের দাবি ছিলো একটি টেকসই বেড়িবাঁধের। টেকসই বাঁধের নামে আমাদের সাথে প্রহসন করা হয়েছে। একদিকে নদী ভাঙছে, অন্যদিকে মাটির পাহাড় গড়া হচ্ছে। নদী শাসন না করে বাঁধ মাটি দিয়ে যতোই উঁচু করা হোক, তা কেনো কাজে আসবেনা।
শরণখোলা উপজেলা নদী শাসন বাস্তবায়ন আন্দোলন কমিটির আহবায়ক ও রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, সিডর পরবর্তী এ এলাকার মানুষের স্বপ্ন ছিলো একটি টেকসই বেড়িবাঁধের। বাঁধের নির্মাণ কাজ শুরু হলেও ভীত একেবারেই দুর্বল। নদী শাসন না করেই বাঁধ নির্মান করায় ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার বাধের বিভিন্ন পয়েন্ট ধসে পড়েছে। নদী শাসন না করে বাঁধ নির্মাণ হলে সরকারের এ প্রকল্পে বরাদ্দকৃত প্রায় ৬০০ কোটি টাকা জলে যাবে। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft