শিক্ষা বার্তা
২৭ বছরেও হয়নি রাকসু নির্বাচন
রাবি প্রতিনিধি :
Published : Monday, 4 December, 2017 at 7:32 PM
২৭ বছরেও হয়নি রাকসু নির্বাচনরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন হয়নি দীর্ঘ ২৭ বছর। সর্বশেষ নির্বাচন হয় ১৯৮৯ সালে। কার্যক্রম না থাকায় শিক্ষার্থীরাও ভুলে গেছেন রাকসুর প্রকৃত অর্থ। বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতেগোনা মাত্র কয়েকজন শিক্ষার্থীকে খুঁজে পাওয়া যাবে যারা জানেন, এর কাজ কী? অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাই এ ভবনকে চেনেন ‘গান-বাজনা’ (সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড) ভবন হিসেবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পেছনে দু’তলা রাকসু ভবন। ভবনটির অবস্থা প্রায় জরাজীর্ণ বলা চলে। ভবনের বাইরের দেয়ালে শেওলা জমেছে। মুছে গেছে রাকসু নামটিও। এ ভবনের পরতে পরতে যদিও লুকিয়ে আছে ঐতিহ্য, গৌরব, সংগ্রামের সমৃদ্ধ ইতিহাস।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৩ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথম রাকসু নির্বাচন হয় ১৯৫৬-৫৭ মেয়াদে। ওই সময় এর নাম ছিল রাজশাহী ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (রাসু)। ১৯৬২ সালে এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) নামে যাত্রা শুরু করে। এখন পর্যন্ত ১৪ বার রাকসু নির্বাচন হয়েছে। সর্বশেষ ১৯৮৯-৯০ মেয়াদে নির্বাচন হয়।
সরেজমিনে জানা যায়, রাকসু ভবনের বাহিরে নামের কোন অস্তিত্ব নেই। ভেতরে ঢুকতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নাট্য সংগঠনের নাটকের মহড়া শুনা গেল। দ্বিতল রাকসু ভবনের প্রায় পুরোটাই জুড়ে নাচ-গান, নাটক, বিতর্ক সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়। ভবনের দ্বিতীয় তলায় রাবি রিপোটার্স ইউনিটির অফিস। সাংস্কৃতিক কর্মীদের মহড়ার আওয়াজ ও বাদ্য যন্ত্রের টুংটাং শব্দে দিনভর মুখরিত থাকে ভবনের চারপাশ। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ ভবনকে চেনেন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের ভবন হিসেবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে আড্ডা দিচ্ছিলেন গণিত বিভাগের একদল শিক্ষার্থীর। ‘রাকসু কি’ তাদের কাছে জানতে চাইলে কেউই বলতে পারলেন না। তারা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর বিভিন্ন সময় রাকসুর নাম শুনেছি। কিন্তু রাকসু কাজ কি তা জানা নেই।’
পাশেই আড্ডা দিচ্ছিলেন সমাজকর্ম বিভাগের ৬ শিক্ষার্থী। রাকসু ভবন চেনেন কিনা এমন প্রশ্নে তাদের মধ্যে কেবল একজন শিক্ষার্থী চেনেন বলে জানান।
রাকসু ভবনের সামনেই কথা হয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সালের সাথে। রাকসুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনিও কিছু বলতে পারলেন না। তিনি বলেন, ‘পত্র-পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় রাকসুর নাম জেনেছি। শুনেছি এটি শিক্ষার্থীদের সংগঠন। এর বেশি কিছু জানি না।’ রাকসু ভবনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকে দেখছি এ ভবনে নাচ, গান, নাটকের রিহার্সেল হয়। মনে হয় এটা সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অফিস।’
শিক্ষার্থীদের ‘অধিকার আদায়ের মঞ্চ’ রাকসু সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাই জানেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ে হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া যাবে যারা রাকসু সম্পর্কে বলতে পারবেন।
রাকসুর সাবেক নেতারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসুর সকল কার্যক্রম ও নির্বাচন বন্ধ থাকায় ক্ষীয়মান হয়ে পড়েছে রাকসুর ঐতিহ্য। শিক্ষার্থীরা রাকসুর ঐতিহ্য, ইতিহাস তো ভুলেছেনই এমনকি রাকসুর নাম পর্যন্ত ভুলতে বসেছেন। তারা বলছেন, রাকসু অচল থাকায় এর নেতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যে শিক্ষাঙ্গনে পরিলক্ষিত হচ্ছে। শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, শিক্ষার নিন্মমান, শিক্ষার্থীদের মাঝে ঐক্যহীনতা, রাজনীতি বিমুখতা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের স্থবিরতাসহ বিভিন্ন সমস্যা প্রকট হয়ে উঠছে দিন দিন। শিক্ষার্থীদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলা ও রাকসুর সংগ্রাম-অর্জনের ইতিহাস সম্পর্কে জানান দিতে রাকসু নির্বাচনের বিকল্প নেই বলে মত দেন তারা।
রাকসুর সাবেক ভিপি রাকিব হাসান মুন্না ও সিপিবি’র রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দুই যুগেরও অধিক সময় ধরে রাকসু নির্বাচন হয় না। নব্বইয়ের পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরিকল্পিতভাবে ছাত্র সংসদ বন্ধ করে দেয়া হয়। শিক্ষার্থীরা রাকসুর ইতিহাস-ঐতিহ্য এমনকি রাকসু কি তা পর্যন্ত ভুলতে বসেছে। এটি খুবই নেতিবাচক বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। রাকসু সে পথটিকে আরো সুগম করে। রাকসু না থাকায় শিক্ষাঙ্গনে পড়ছে এর বিরূপ প্রভাব।’
রাকসু না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও সাস্কৃতিক কর্মকান্ডের উপর বিরূপ প্রভাব মন্তব্য করে  বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব ড. মলয় ভৌমিক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার ত্রিমুখী ধারা রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে একাডেমিক কার্যক্রম এবং সেটাকে ফলপ্রসু করার জন্য শিক্ষার্থীদের নানা ধরণের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকা। এর ফলে শিক্ষা চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজের সাথে সম্পৃক্ত হয়। আর সমাজ ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরী হয় হল সংসদ, রাকসুর মাধ্যমে। রাকসু না থাকায় শুধুই সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের ক্ষতি হচ্ছে তা বলা যাবে না। কারণ শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার ত্রিমুখী ধারার মধ্যে কেবল একাডেমিক কার্যক্রম বজায় রয়েছে কিন্তু অন্য দুটি বন্ধ। এ দুটি ধারা না থাকায় শিক্ষা সমাজ ও সংস্কৃতি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।’



আরও খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft