দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
হত্যায় প্রত্যাশার কয়েক স্টাফ জড়িত
খোঁজা হচ্ছে কমিটির কয়েকজনকে
দেওয়ান মোর্শেদ আলম :
Published : Thursday, 7 December, 2017 at 5:17 AM
খোঁজা হচ্ছে কমিটির কয়েকজনকে যশোর উপশহরের প্রত্যাশা সমাজ কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক গোলাম কুদ্দুস ভিকু হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে ঐ সংস্থার আরও কয়েক স্টাফের বিরুদ্ধে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। প্রত্যাশার হেড অফিসহ সকল শাখার অর্থনৈতিক বিষয় দেখভাল করা আবু মুরাদসহ ৩/৪ জন রয়েছেন ওই তালিকায়।
ওই সব স্টাফকে আটকের পাশাপাশি প্রত্যাশার পরিচালনা বডির কয়েকজনকে খুঁজছে পুলিশ। তাদের কয়েকজন এখন আর অফিসমুখি হচ্ছেন না। এদিকে এরিয়া ম্যানেজার বাহারুল ইসলামকে আটকে তার বাড়ি ভায়না রাজপুরে কয়েক দফা অভিযান চালানোয় তার ভাইসহ সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে এলোমেলো তথ্য চাউর করছে বলে থানা সূত্র জানিয়েছে।
২ ডিসেম্বর রাতে উপশহরের সি ব্লকের নিজ বাড়ির সামনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুন হন প্রত্যাশার নির্বাহী পরিচালক গোলাম কুদ্দুস ভিকু। অজ্ঞাত কয়েক দুর্বৃত্ত বোমা ও গুলি ছুঁড়ে হত্যা করে তাকে। কেন এই হত্যাকান্ড এবং ঘটনায় কারা জড়িত থাকতে পারে এসব দিক নিয়ে অভিযানের পর পুলিশ প্রাথমিক তথ্য পায়, বিশাল অংকের টাকার একটি ঘাপলা ধরে ফেলেন পরিচালক ভিকু। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব ও বাকবিতন্ডা হয়। প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক দ্বন্দ্বের পাশাপাশি গোলাম কুদ্দুস ভিকুর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তথ্য সংগ্রহে ৪ স্ত্রীর বিষয়েও খোঁজ-খবর নেয়। প্রথম স্ত্রী বকচরের মিমি স্বেচ্ছায় ডিভোর্স দিয়ে গেছেন। ব্লাক মেইলিংয়ের মধ্যদিয়ে হওয়া বিয়ের দ্বিতীয় স্ত্রী মহেশপুরের আমেনা। ভিকু ওই বিয়ে মেনে না নেয়ায় আমেনা মামলা করেন। তৃতীয় স্ত্রী মণিরামপুরের তানিয়া স্বামী ভিকু অসুস্থ এই দোহাই দিয়ে সংসার গুটিয়ে চলে যান। আর চতুর্থ স্ত্রী শারমিন, যাকে নিয়ে ভিকু নিজের বাসায় বসবাস করছিলেন। এই চার স্ত্রীর মধ্যে ভিকু হত্যাকান্ড নিয়ে শারমিন মামলা করেন। মামলায় দ্বিতীয় স্ত্রী আমেনা, প্রত্যাশার ব্যবস্থাপক ভায়না রাজাপুরের বাহারুল ইসলাম ও হিসাব রক্ষক ঘুরুলিয়ার মাসুদুর রহমানকে আসামি করা হয়।
থানার ওসি ইন্টেলিজেন্স এন্ড কমিউনিটি পুলিশিং আলমগীর হোসেন মামলাটি তদন্ত শুরু করেন। তিনি জানান মামলায় দ্বিতীয় স্ত্রী আমেনা, প্রত্যাশার হিসাবরক্ষক ঘুরুলিয়ার মাসুদুর রহমানকে আটক করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তে গিয়ে তথ্য পাওয়া গেছে, এই হত্যায় প্রত্যাশা এনজিওর আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এর মধ্যে আবু মুরাদ মোস্টওয়ান্টেড। সে গা ঢাকা দিয়েছে। এ ছাড়া পরিচালনা বডির অনেকে গা ঢাকা দিয়েছেন। অনেকে এখন অফিসেও আসছেন না। আরও কয়েক স্টাফ পালিয়ে রয়েছেন।
পরিচালক ভিকু ব্যবস্থাপক বাহারুলের ১৭ লাখ টাকার ঘাপলা ধরে ফেলেছিলেন। এনিয়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়, পরে ভিকু খুন হন। এ বিষয়টি সামনে নিয়ে যখন বাহারুলকে খুঁজতে অভিযান চলছে তখন বাহারুলের ভাই এনজিওটির সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম এলোমেলো বুলি আওড়াচ্ছেন। ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে এবং অফিস সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজন ও কমিটিকে সেইফ করতে তিনি ওই পথ বেছে নিয়েছেন বলেও পুলিশের দাবি।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, মামলার অগ্রগতি হয়েছে। কয়েকজনের গতিবিধি নজরদারিতে রয়েছে। দ্রুতই তারা আটক হবে। প্রত্যাশার ১৭ লাখ টাকা ঘাপলা সমন্বয় করার কথা ছিল কয়েকজন স্টাফের। আর ওই টাকা সমন্বয়ের হিসেব চাওয়ার আগেই খুন হন ভিকু। হত্যায় অর্থনৈতিক সংশ্লিষ্টতার উপর জোর দেয়া হচ্ছে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft