মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৮
স্বাস্থ্যকথা
বিভিন্ন স্থানে শিশুরা ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে
কাগজ ডেস্ক :
Published : Wednesday, 10 January, 2018 at 7:40 PM
বিভিন্ন স্থানে শিশুরা ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেতীব্র শীতের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুরা ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, বক্ষব্যাধি হাসপাতালেও ঠাণ্ডাজনিত রোগে ভোগা শিশুদের নিয়ে ভিড় জমাচ্ছে অভিভাবকরা।  রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। এছাড়া চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে শিশু রোগীর ভিড় বাড়ছে। পাশাপাশি দিনকে দিন বাড়ছে নবজাতক শিশুর শ্বাস কষ্ট।
রাজধানীসহ সারাদেশে শত শত শিশু একিউট রেসপিরেটরি ইনফেকশন (এআরআই) বা তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণজনিত বিভিন্ন রোগে (নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস, হাঁপানি, অ্যাজমা, টনসিলাইটিস, ফারেনজাইটিস) আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়াও সাধারণ জ্বর, ঠাণ্ডা, হাঁচি, কাশি, ডায়রিয়া, আমাশয় ও জন্ডিসে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আউটডোরে গড়ে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ জন শিশু রোগী আসছে। শিশুরা প্রধানত শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণজনিত সমস্যায় ভুগছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো মোট রোগীর শতকরা ৫০ ভাগই ভাইরাল ব্রঙ্কিওলাইটিসে আক্রান্ত।
এছাড়া ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গেল তিন দিনে রাজধানীর মহাখালীর আইসিডিডিআরবিতে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন, ৮শ’ ৭৩ জন। প্রতিদিন ক্রমেই সংখ্যা বাড়ছে।
শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশব্যাপী চলমান শৈত্যপ্রবাহ ও তীব্র শীতের কারণে শিশুরা ঠাণ্ডাজনিত রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। রাস্তায় ধুলোবালি বেশি থাকায় যে সকল শিশুর অ্যালার্জিজনিত সমস্যা আছে তাদের সহজেই ঠাণ্ডা লেগে যায়। এ সময় বাসাবাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় আবদ্ধ ঘরে সূক্ষ্ম ধুলিকণা বাতাসের মাধ্যমে শিশুদের নাকমুখ দিয়ে ঢুকে রোগাক্রান্ত করে।
বেশিরভাগ শিশুর অভিভাবকরা জানালেন, তাদের সন্তানরা শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত নানা সমস্যায় ভুগছে। তবে নবজাতক শিশুরা বেশি ভুগছে বলে জানান তারা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের আবাসিক চিকিৎসক তানজিয়া খানম টম্পা জানান, শিশু হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা না বাড়লেও গত কয়েকদিন যাবত ঠাণ্ডাজনিত রোগব্যাধি নিয়ে বেশিরভাগ রোগী এখানে ভর্তি হচ্ছে। তিনি বলেন, শীতজনিত শিশুর শ্বাসকষ্টের অন্যতম দুটি কারণ ব্রঙ্কিউলাইটিস ও নিউমোনিয়া।
পরামর্শ হিসাবে তিনি বলেন, এ সময়ে যেকোনো শিশুর কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে প্রথমে নাকে ড্রপ দেয়া, যথেষ্ট গরম রাখার ব্যবস্থা করা, বুকের দুধ ও প্রচুর তরল খাবার দিতে হবে। যেসব শিশুর বেশি শ্বাসকষ্ট, শরীর কালো বা নীল হয়ে যাচ্ছে, তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
একদিকে হাসপাতালগুলো বহির্বিভাগের দেয়ালে শিশুদের সুস্থ রাখতে যে নির্দেশনা সেঁটে দেয়া হয়েছে, তাতে লেখা আছে: শিশুদের পায়ে মোজা, গায়ে সোয়েটার ও মাথায় টুপি পরাতে হবে, সকালে ও সন্ধ্যায় শিশুকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে নেয়া যাবে না, হালকা গরম পানিতে দুপুরবেলায় অল্প সময়ের মধ্যে গোসল করাতে হবে, শিশুরা পায়খানা-প্রস্রাব করার সঙ্গে সঙ্গে বদলে দিতে হবে, শ্বাসকষ্ট, কাশি, দ্রুত শ্বাস নিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে; ছয় মাসের কম বয়সী শিশুকে বারবার বুকের দুধ খাওয়াতে হবে এবং ছয় মাসের বেশি বয়সী শিশুদের বুকের দুধ ও পরিপূরক খাবার দিতে হবে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft