মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৮
শিক্ষা বার্তা
এক পা নিয়েই জেএসসি-পিএসসি’তে জিপিএ-৫
কাগজ সংবাদ :
Published : Thursday, 11 January, 2018 at 8:15 PM
এক পা নিয়েই জেএসসি-পিএসসি’তে জিপিএ-৫যশোরের এক অদম্য কিশোরী তামান্না আকতার। তার জন্ম হয়েছিলো মাত্র একটি পা নিয়ে। তার কোনও হাত নেই। কিন্তু এই কিশোরী সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিকে জিপিএ ৫ পেয়ে পাশ করেছে। এখন সে পড়ছে দশম শ্রেণীতে। অথচ এই বিজয়টা এত সহজ ছিলো না। এজন্য শুধু তামান্না নয়, সংগ্রাম করতে হয়েছে তার গোটা পরিবারকেই।
এ সম্পর্কে তার বাবা যশোরের ঝিকরগাছার বাসিন্দা রওশন আলী বলেন, জন্মের পর থেকে আমার মেয়ের প্রতি চারপাশের মানুষ যে অবহেলা, যে অনীহা আর কুসংস্কারমূলক কথাবার্তা বলেছে, তা আমাকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছে। কিন্তু সেই অনীহাই আমাকে উৎসাহিত করেছে তাকে নিয়ে কিছু করার ব্যপারে। আমার ইচ্ছা ছিল এই মেয়েকে নিয়ে আমি এমন কিছু করে দেখাব যেন সবাইকে বলতে পারি, দেখো আমার মেয়ে প্রতিবন্ধী নয়।
কিন্তু এত অল্পতে থামতে রাজি নয় তামান্না। তাকে পাড়ি দিতে হবে আরও অনেক পথ। দেশের একজন সফল চিকিৎসক হতে চায় সে। এজন্য নবম শ্রেণিতে উঠার পরই বেছে নিয়েছে বিজ্ঞান বিভাগ। পা দিয়ে লেখার পাশাপাশি সুন্দর ছবি আঁকার জন্য প্রশংসিত হচ্ছে এই কিশোরী। মাত্র এক পা দিয়েই প্রয়োজনীয় সব কাজ করতে পারে তামান্না।
শারীরিকভাবে অক্ষম মেয়েকে এ পর্যায়ে নিয়ে আসাটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জিং ছিলো তার বাবা রওশন আলীর জন্য। এই চ্যালেঞ্জ তিনি কীভাবে জয় করলেন? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার মেয়ের জন্য আমি শিক্ষিত হয়েও কোন চাকরি করিনি। ছোট্ট মেয়েটাকে নিয়ে আমার মনে একটাই চ্যালেঞ্জ  ছিলো; ওকে অনেক উপরে নিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, প্রথম যখন ওর পায়ের আঙুলের ফাকে চক দেই, ও বলছিল, আব্বু একটু যেন ব্যথা করে। এরপর আমি কলমের মত বলে পাটখড়ি দিতাম পায়ের আঙুলের ফাঁকে। একটা সময় যখন সেটা ওর অভ্যাস হলো, তখন আস্তে আস্তে কলম দিতে শুরু করলাম। কিছুদিন পর সে বর্ণমালা লেখা শিখে ফেললো। কিন্তু মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করাতে নিয়ে গিয়ে হলেন হতাশ। সেখানকার লোকজন বললো, একে আনছেন কেনো? এ স্কুলে ভর্তি হয়ে কি করবে, ও কি পড়তে পারবে নাকি?
এরকম কথায় খুব আঘাত পেয়েছিলেন রওশন আলী। কিন্তু লোকের কথাকে পাত্তা না দিয়ে তিনি মেয়ের শিক্ষা মনোনিবেশ করেন। কেননা তিনি ভালো করেই জানতেন, এই মেয়েকে নিয়ে তাকে এগিয়ে যেতে হবে।
স্কুলে ভর্তি হবার পর তামান্না প্রথম শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে ওঠে ফার্স্ট হয়ে। এই ফলাফল ওর লেখাপড়ায় উৎসাহ আরো বাড়িয়ে দেয়। সে মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকে। অন্য সক্ষম মানুষদের চেয়েও সে যে এগিয়ে তা আজ প্রমাণিত। ২০১৬ সালে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় (জেএসসি) তামান্না জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর আগে ২০১২ সালে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষাতেও (পিএসসি) জিপিএ-৫ পেয়েছিল তামান্না। আসলেই, কোনো বাধাই মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারে না, যদি তার ইচ্ছাশক্তি হয় অদম্য। তামান্না তার প্রমাণ দিয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft