মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৮
অর্থকড়ি
বাম্পার ফলনের আশায় খাজুরার আলু চাষীরা
খাজুরা (যশোর) প্রতিনিধি :
Published : Friday, 12 January, 2018 at 9:06 PM
বাম্পার ফলনের আশায় খাজুরার আলু চাষীরাচলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া থাকায় বাম্পার ফলনের আশায় যশোরের খাজুরায় আলু ক্ষেত পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে কৃষকেরা। এ এলাকার মাঠ জুড়ে এখন শুধু সতেজ ও সবুজ আলু ক্ষেতের সমারোহ। গেল বছর আলুর নায্য বাজার মূল্য না পাওয়াতে দিশেহারা হতে হয়েছিল কৃষককে। লাভ তো দুরের কথা, উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হয়েছিল। তাদের ধারণা এবছর আশানুরুপ বাজার মূল্য পাবে। আবহাওয়া অনুকুল থাকায় বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন এই এলাকার আলু চাষীরা। যে সমস্ত চাষী নভেম্বর মাসের শুরু এবং মাঝামাঝিতে আলু বীজ রোপণ করেছিল তারা অল্প অল্প করে আলু বাজারজাত করতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার হাটে এলাকার বৃহত্তম মোকাম খাজুরা বাজারে পাইকারী মণ প্রতি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা দরে ও খুচরা প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে নতুন আলু বেচাকেনা হয়। তবে অধিকাংশ কৃষক নভেম্বরের শেষ ও ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে আলুর বীজ রোপণ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ভাল ফলন পাবেন বলে আশা করছেন তারা। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের ২০ তারিখ থেকে তারা আলু বাজারজাত করতে পারবেন। সদর উপজেলার কোদালিয়া নোঙ্গরপুরের কৃষক রুস্তম আলী ৩ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছেন। ৩ বিঘা জমিতে তার পঁচাত্তর হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমান বাজার দর বা তার কাছাকাছি থাকলে তার ৩ বিঘা জমি থেকে উৎপাদিত আলু ২ লক্ষ থেকে ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা বিক্রি হবে বলে জানান। একই মাঠের আরেক কৃষক ইয়ার আলী জানান, এবার বীজের গুণগত মান ভাল হওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূল থাকায় বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। রোপণকৃত আলুর ৯০ ভাগ চারা গজিয়েছে। বাঘারপাড়া উপজেলার ধর্মগাতী গ্রামের চাষী নজরুল ইসলাম বলেন, শীত এবং কুয়াশা যদি আরও অনেক বেড়ে যায় তাহলে আলুর ফলন কমে যাবে। আলুর পাতায় কুয়াশার পানি জমে পাতা ভারী হয়ে মাটিতে পড়ে পাতা পঁচে যাওয়ার আশংকা থাকে।  মথুরাপুর গ্রামের সফল চাষী ইসলাম মোল্যা এবার ৬ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। গত বছর বাজার মূল্য আশানুরুপ না থাকায় বড় ধরনের লোকসান হয়েছিল তার। এবার বাজার দর এমন টিকে থাকলে সে তার ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে অনেকটা লাভের মুখ দেখবেন বলে জানান। এমন চিত্র বৃহত্তর খাজুরা এলাকার লেবুতলা, মির্জাপুর, ধর্মগাতী, পার্বতীপুর, ধান্যপুড়া, পুলেরহাট, গাইদঘাটসহ সব মাঠে। এই এলাকার জনপ্রিয় আলুর জাত ডাইমন্ড এবং কার্ডিনাল। স্বনামধণ্য যশোর ক্লাসিক সীড ফার্ম লিমিটেডের খাজুরা এলাকার আলু বীজের ডিলার মুন্সী বীজ ভান্ডারের সত্বাধিকারী ওসমান গণি লাভলুর সাথে কথা হলে তিনি জানান, খাজুরা এলাকায় চলতি মৌসুমে তিনি কৃষকের মাঝে ৭০ থেকে ৮০ টণ আলুর বীজ বিক্রি করেছেন।  শতকরা ৮০ ভাগ কৃষক কার্ডিনাল জাতের আলু বীজ রোপণ করেছেন। এই জাতের আলুতে ফলন একটু বেশি। বিঘা প্রতি ১২০ থেকে ১৪০ মণ আলু হয়। এবার আলুর মণ প্রতি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা বাজার পেলে কৃষক লোকসানের হাত থেকে বাচবে। তবে অনেক কৃষক মনে করছে এবারও যদি আলুর বাজারে যদি ধস নামে তাহলে হয়তো দেশ থেকে আলুর চাষ উঠে যাবে। তবে আলুর দাম এবার ভালো পেলে আগামীতে আরো বেশি জমি এ চাষের আওতায় আসবে। সব মিলিয়ে ষড় ঋতুর এই বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিরুপ আবহাওয়াসহ নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে লাভ ক্ষতির যাতাকলে পৃষ্ঠ কৃষক সমাজ। আবহাওয়া ভাল থাকায় বাম্পার ফলন হবে এবং বর্তমান বাজার মূল্য ঠিক বা তার কাছাকাছি থাকলে গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে যাবে এমনই আশা করছেন এই এলাকার আলু চাষীরা।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft