বুধবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
দোটানায় পড়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর
দেশ জুড়ে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার
দেওয়ান মোর্শেদ আলম :
Published : Saturday, 13 January, 2018 at 6:07 AM

দেশ জুড়ে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার দেশ জুড়ে ব্যবহার হচ্ছে সরকার নিষিদ্ধ পলিথিন। দেশের বিভিন্ন শহরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিভিন্ন দোকানে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে সরকার নিষিদ্ধ পলিথিন। আর প্রকাশ্যেই  চলছে বিকিকিনি। যারা পলিথিন উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার করছেন তারা অনেক হয়তো ভুলেই গেছেন বাংলাদেশে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ। এর সাথে যোগ হয়েছে যারা আইন প্রয়োগ করে পলিথিন বন্ধ করবে সেই পরিবেশ অধিদপ্তরও। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারও বুঝে উঠতে পারছেন না কোন পলিথিন বন্ধ করবেন আর কোনটা ব্যবহারে অনুমতি দেবেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্লিপ্ততা ও ধারাবাহিক মোবাইল কোর্ট অভিযান না চলায় পরিবেশের উপর প্রতিকূল প্রভাব ফেলা এই নিষিদ্ধ পলিথিন প্রতিরোধ হচ্ছে না।  
সূত্র জানিয়েছে, ২০০২ সালে প্রথম পরিবেশ বিনষ্টকারী পলিথিনের উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রম এবং ব্যবহার বন্ধে আইন পাস হয়। এই আইন অমান্য করলে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আর বাজারজাত করলে ছয় মাসের জেল ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা দোকানে পলিথিন বিক্রি বন্ধ হয়নি। বড় বড় বাজার থেকে শুরু করে গ্রামের মোড়ের মুদি দোকানগুলোতে ব্যবহার হচ্ছে পলিথিন। এমনকি ভ্যানে করে সবজি বিক্রিসহ নানা শপিং মলেও মিলছে অবাধে পলিথিনের ব্যবহার।
পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, আইন প্রণয়নের  পরবর্তী সময়ে রপ্তানি করা সকল পণ্যের মোড়কের ক্ষেত্রে, রেনু পোনা পরিবহনের জন্য পণ্যের গুণগতমান রক্ষার স্বার্থে প্যাকেজিং কাজে ব্যবহারের জন্য, মাশরুম চাষ ও প্যাকেজিংয়ের জন্য এবং নার্সারির চারা উৎপাদন ও বিপণনের জন্য পলিথিন ব্যবহারে কিছুটা ছাড় দিয়ে আসা হচ্ছে। কিছু কিছু পণ্যের মোড়কের জন্য পলিথিন উৎপাদনের অনুমোদন থাকলেও পলিথিন উৎপাদন কারখানগুলো গোপনে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন শপিং ব্যাগ তৈরি অব্যাহত রেখেছে। যে কারণে মোবাইল কোর্ট করে মাঝে মাঝে বাজার থেকে পলিথিন ব্যাগ অপসারণের যে কার্যক্রম পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর করে আসছে তা কাজে আসছে না। যশোরসহ আশেপাশের আরও কয়েকটি জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে চোখে পড়েছে ক্রেতা ও বিক্রেতারা পুরোদমে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার করে যাচ্ছেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরে অপর একটি সূত্র জানিয়েছেন, ২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সারাদেশে পরিবেশ অধিদপ্তর নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন শপিং ব্যাগের বিরুদ্ধে ৩ হাজার ১৮৬টি মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করে ৮শ৭৭ টন পলিথিন জব্দ ও ৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে। এ অভিযান এবং পলিথিন আটকের ঘটনায়ও কোনো পরিবর্তন আসেনি।
এব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবেশ অধিদপ্তরে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পলিথিন নিষিদ্ধ করে একটি আইন আছে তাই বন্ধে কাজ করছি। নিষিদ্ধের আইনটি করার আগে ভাল করে স্টাডি করা উচিত ছিল। সেই সময় (বিএনপি সরকারের সময় ২০০১-২০০৫ সাল) পরিবেশ ও বনমন্ত্রী শাজাহান সিরাজ একটা উদ্যোগ নিয়ে মিডিয়া ট্রায়েল দিয়েছিলেন মাত্র। মূলত তা কোনো কাজে আসেনি। তিনি বলেছেন, মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা ছাড়া বাজার থেকে পুরোপুরি পলিথিন বিদায় করা যাবে না। এর সাথে থাকতে হবে পলিথিনের বিকল্প ব্যবস্থা। এ পর্যন্ত সরকার পলিথিন নিধনে যে পরিমাণ রাজস্ব খরচ করেছে তাতে কোনো লাভ হয়নি।
এদিকে অপর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সরকারের বড় বড় সভা সেমিনারে ব্যাপকভাবে আলোচনায় উঠে আসা এবং আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে তাগিদ দেয়া সত্বেও পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলা পলিথিনের ব্যবহার কমছে না। বরং এই পলিথিন বিকিকিনিতে সিন্ডিকেটের পর সিন্ডিকেট তৈরি হচ্ছে। আর প্রয়োজনীয় অভিযান না চলায় এখন প্রকাশ্যেই বিকিকিনি শুরু হয়েছে। রঙিন আর বাহারি না হলেও সাদা বিভিন্ন সাইজের নিষিদ্ধ পলিথিনে বাজার সয়লাব করছে ওই সব সিন্ডিকেট। চিহ্নিতরা অতিগোপনে কয়েকটি পলিথিনের প্যাকেট উৎপাদন কারখানা চলছে বলেও অভিযোগ। এছাড়া অভিযুক্ত চক্রটি কয়েকটি ট্রান্সপোর্টের মাধ্যমে এসব মাল আনছে। চোরাই পথে ভারত থেকেও আসছে তাদের পলিথিনের চালান। দেশজুড়ে এসব চক্র সক্রিয়। তাদের লাগাম টানতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি উঠেছে। একই সাথে পরিবেশ অধিদপ্তরকে আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহবান আসছে বিভিন্ন মহল থেকে। পরিবেশ সুরক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর পলিথিন প্রতিরোধে কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে বলেও সচেতন মহলের দাবি। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft