শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
ওপার বাংলা
পশ্চিমবঙ্গে মোদির তুরপের তাস ভারতী ঘোষ!
কাগজ ডেস্ক :
Published : Friday, 9 February, 2018 at 4:01 PM
পশ্চিমবঙ্গে মোদির তুরপের তাস ভারতী ঘোষ!আজকাল সেলিব্রেটি তারকাদের মতই প্রচারণা পাচ্ছেন ভারতের সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ভারতী ঘোষ, হউক সেটা ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক । একসময় খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন পশ্চিতবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে দহরম মহরমের কারণে। এখন শিরোনাম হচ্ছে নানা হেনস্থার কারণে। এখন শোনা যাচ্ছে, তিনি নাকি মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন। এ খবর সত্যি হলে ওই রাজ্যে মমতাকে পাল্লা দিতে বিজেপির শক্তি যে আরও পাকাপোক্ত তা একপ্রকার নিশ্চিত। তো, এক সময়ের জাদরেল এই পুলিশ অফিসারকে নিয়ে মোদি আর মমতার লড়াইটা ভালোই জমে ওঠেছে।
অথচ একসময় পশ্চিমবঙ্গের ডাকসাইটে পুলিশ অফিসার ভারতী ঘোষ ছিলেন পশ্চিতবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ডানহাত বামহাত। তার পোস্টিং ছিল পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলায়। তখন তার ভয়ে বাঘে মহিষে এক ঘাটে জল খেত। তার এই শক্তির মূল উৎস ছিল অবশ্যই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর চোখের মনি। শুধু আইন শৃঙ্খলা রক্ষাই নয়, মমতার দল তৃণমূলেও ছিলো তার অসীম প্রভাব। দলকে গোছানো, দলকে বাড়ানো, দল ভাঙা, কাউকে দলে আনা—এসবের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
তাই ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০১৬ সালের রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের চাপের মুখে ভারতী ঘোষকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেয় ভারতের নির্বাচন কমিশন। বদলি করে দেয় অন্যত্র। কিন্তু নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতী ঘোষকে স্বপদে ফিরিয়েও আনেন। মমতার সূত্র ধরে তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা মুকুল রায়ের সঙ্গেও হৃদ্যতা গড়ে ওঠে ভারতীর। কিন্তু মমতার সঙ্গে বিরোধের কারণে গতবছর দল ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন মুকুল রায়। এরপরও মুকুল রায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করেননি পুলিশ সুপার ভারতী। এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না মমতা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের তৃণমূল নেতা ও রাজ্যের এক প্রভাবশালী মন্ত্রী। ফলে দুজনের সম্পর্কে চিড় ধরে, একসময়ের প্রিয়পাত্রী হয়ে যান শত্রু। তখন থেকেই ভিতরে ভিতরে ভারতীকে এক হাত নেয়ার পরিকল্পনা করে চলেন মমতা, যার প্রকাশ পায় গত ২৬ ডিসেম্বর।
ওই দিন ভারতী ঘোষকে পুলিশ সুপারের পদ থেকে সরিয়ে বদলি করা হয় উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুরের পুলিশের তৃতীয় ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার পদে। এটা তার জন্য ছিল চরম অপমানের বিষয়। এটাই মেনে নিতে পারছিলেন না ভারতী ঘোষ। তাই তিনি নতুন পদে যোগ না দিয়ে পদত্যাগ করেন। আবেদন করেন স্বেচ্ছা-অবসরের। এতে জ্বলে ওঠেন মমতা, তাকে শায়েস্তা করার চেষ্টা চালাতে থাকেন। ফলে শেষ হয়ে যায় মমতা-ভারতী ‘প্রেমের অধ্যায়’। অন্যদিকে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের সঙ্গে দহরম মহরম শুরু হয় ভারতীর। ‘শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু’এই থিওরি থেকেই ভারতীকে কাছে যেকে নেন একসময়ের তৃণমূল নেতা মুকুল রায়।
তাই বলে হাত গুটিয়ে বসে থাকার পাত্রী নন মমতাও। কলকাতার ডিআইডি পুলিশকে দিয়ে ভারতীর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একাধিক দুর্নীতি মামলা। তার বাড়িতে গত মঙ্গলবার নির্মম পুলিশি তল্লাশির ঘটনাও ঘটেছে। তার বাড়ি থেকে দেশি বিদেশি মদের বোতল এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র নাকি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনা প্রবাহের কারণে গত ডিসেম্বর থেকেই নিয়মিত সংবাদের শিরোনাম হচ্ছে একাধিকবার সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়েছেন ভারতী ঘোষ। সিআইডি ইতিমধ্যে ভারতী ঘোষের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করে ১০ ফেব্রুয়ারি কলকাতার সিআইডি হেড কোয়ার্টার ভবানী ভবনে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
জবাবে এই ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করেছেন ভারতী ঘোষ ও তার স্বামী ।
এই অবস্থায় ভারতী ঘোষকে বিজেপিতে নেওয়ার জন্য তৎপরতা শুরু করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। ইতিমধ্যে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস বিজয় বর্গীয় এবং রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন ভারতী ঘোষ। যেভাবে তাকে বিপদে ফেলার জন্য তৎপর হয়ে ওঠেছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার, তা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে মমতার প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিজেপিতে যোগ দেয়ার ছাড়া তেমন কোনো বিকল্প পথও খোলা নেই ভারতীর সামনে। কিন্তু বিজেপিতে যোগ দিলেই যে তার বিরুদ্ধে করা দুর্নীতি মামলাগুলো থেকে নিষ্কৃতি মিলবে সেটি স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে নিজের পক্ষে লড়াই করার মত মানসিক জোর ও সমর্থন অবশ্যই পাবেন। ভারতীকে নিয়ে মোদি আর মমতার দড়ি টানাটানির এই লড়াইয়ে কে জিতবে তা সময়ই বলে দিবে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft