শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
২০২১ সালের মধ্যে বাল্য বিবাহ শূন্যের কোটায় আনার উদ্যোগ
এস এম আরিফ :
Published : Sunday, 11 February, 2018 at 6:40 AM
২০২১ সালের মধ্যে বাল্য বিবাহ শূন্যের কোটায় আনার উদ্যোগআগামী প্রজন্মের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা এবং সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতেও বাল্য বিয়ে একটি বড় বাধা। নারীর ক্ষমতায়নে প্রধানতম বাধা হিসেবেও বাল্য বিয়ে চিহ্নিত করা যায়। বাল্য বিয়ের শিকার ছেলে বা মেয়ে উচ্চ শিক্ষা এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিশু শিক্ষা থেকেও বঞ্চিত হয়। বাল্য বিয়ে একদিকে আইন এবং সংবিধানের লংঘন, অন্যদিকে বাল্য বিবাহের শিকার ছেলে ও  মেয়ে তার ব্যক্তি স্বাধীনতা থেকেও বঞ্চিত হয়। বাল্য বিয়ে নিরোধ টেকসই উন্নয়নেরও অন্যতম শর্ত। ২০২১ সালের মধ্যে বাল্য বিবাহ শূন্যের কোটায় আনার লক্ষ্যে শনিবার সকাল ১০টায় যশোর কালেক্টরেট সভা কক্ষে জেলা ও উপজেলার আইনানুগভাবে বিবাহ অনুষ্ঠান নিশ্চিতকরণ এবং সিটিজেন চার্টার বিষয়ে অগ্রগতি সংক্রান্ত পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গর্ভনেন্স ইনোভেশন ইউনিটের মহাপরিচালক আবদুল হালিম। যশোর জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন সভায় সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এ এম রফিকুন্নবী, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ শাহ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মাজেদুর রহমান খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হুসাইন শওকত ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) দেবপ্রসাদ পাল। অনুষ্ঠানে যশোরের সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ উপস্থিত ছিলেন।  
সভায় জানানো হয়, বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ অনুযায়ী নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স যথাক্রমে ১৮ এবং ২১ বছর।  বাল্য বিয়ে প্রতিরোধের জন্যে জাতীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিরোধ কমিটি গঠন ও এর কার্যাবলী নির্ধারণের বিধান করা হয়েছে। বাল্য বিয়ে বন্ধে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধির সাধারণ ক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক বা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি কোন ব্যক্তির লিখিত বা মৌখিক আবেদন অথবা অন্য কোন মাধ্যমে বাল্য বিয়ের সংবাদ পেলে তিনি উক্ত বিয়ে বন্ধ করবেন। অথবা আইনের আওতায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
আইনে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গকারীকে ছয় মাসের কারাদন্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত এবং অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদন্ডে দন্ডিত করার বিধান করা হয়েছে। বাল্য বিয়ের ক্ষেত্রে মিথ্যা অভিযোগজনিত অপরাধে অনধিক ছ’ মাস কারাদন্ড বা অনধিক ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত এবং অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো এক মাস কারাদন্ডে দন্ডিত করার বিধান করা হয়েছে। বাল্য বিয়ে করলে প্রাপ্ত বয়স্ক নারী বা পুরুষ, যিনি দায়ী হবেন তাকে অনধিক দু’ বছর কারাদন্ড বা অনধিক এক লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত এবং অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো তিন মাস কারাদন্ডে দন্ডিত করার বিধান করা হয়েছে। তবে, অপ্রাপ্ত বয়স্ক নারী বা পুরুষের ক্ষেত্রে অনধিক এক মাসের আটকাদেশ বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় ধরনের শাস্তিযোগ্য করার বিধান করা হয়েছে। বিলে বাল্য বিয়ে সংশ্লিষ্ট পিতা-মাতাসহ অন্যান্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে বাল্য বিয়ের জন্যে অনধিক দু’ বছর ও অন্যুন ছ’ মাস কারাদন্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত এবং অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো তিন মাস কারাদন্ডে দন্ডিত করার বিধান করা হয়েছে। বাল্য বিয়ে সম্পাদন বা পরিচালনাকারীর ক্ষেত্রে অনধিক দু’ বছর ও অন্যুন ছ’ মাস কারাদন্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত এবং অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো তিন মাস কারাদন্ডে দন্ডিত করার বিধান করা হয়েছে। বাল্য বিয়ে নিবন্ধকের ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল, তাকে অনধিক দু’ বছর ও অন্যুন ছ’ মাস কারাদন্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত এবং অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো তিন মাস কারাদন্ডের বিধান করা হয়েছে।
দুপুর আড়াইটায় যশোর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুরুপ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফ-উজ-জামানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গর্ভনেন্স ইনোভেশন ইউনিটের মহাপরিচালক আবদুল হালিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট সেতারা খাতুন, কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম আজমল হুদা, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ইমদাদুল হক রাজু, জেলা বিবাহ রেজিস্টার আব্দুল মালেক। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা মাহমুদা, আরবপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম, দেয়াড়া ইউপি চেয়ারম্যান আনিচুর রহমান, লেবুতলা ইউপি চেয়ারম্যান আলীমুজ্জামান মিলন, উপশহর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান হাসান জহির, নওয়াপাড়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আকরাম হোসেন, লেবুতলা ইউপি সদস্য সায়রা বেগম, বসুন্দিয়া ইউপি সদস্য ফিরোজা সুলতানা, উপজেলা বিবাহ রেজিস্টার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন,কাশিমপুর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী আবদুল্লাহ সিদ্দিকী, রামনগর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী  শেখ কামাল হোসেন প্রমুখ।
সভায় জানানো হয় বাল্য বিয়ে বন্ধে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে প্রশিক্ষণ, ফলোআপসহ নানাবিধ উদ্যোগে ২০২১ সালের মধ্যে যশোর সদর উপজেলাকে বাল্য বিয়ে মুক্ত উপজেলা ঘোষণা করা হবে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft