শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
জাতীয়
রাজনীতির মাঠ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ
কাগজ ডেস্ক :
Published : Tuesday, 13 February, 2018 at 8:22 PM
রাজনীতির মাঠ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় আওয়ামী লীগসরকার ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত কঠোর অবস্থানে থাকবে। দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগামী ১০ মাস সরকার বিরোধী কোন আন্দোলন মাঠে গড়াতে দেবে না দলটি। আর আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি তিনমাস অন্তর দেশের আইনশৃংখলার সার্বিক পরিস্থিতি মনিটর করবে প্রশাসন।
বিএনপি নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের নামে বেআইনি পথে হাটলেই আইনী ব্যবস্থাও নেয়া হবে। রাজনৈতিক পরিবেশ বিপন্ন হতে দেবে না আওয়ামী লীগ। ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি করা হলে কঠোর অবস্থানে থাকবে দলটি।
অন্যদিকে রাজনীতির মাঠ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৃণমূলের রাজনীতি চাঙা রাখবে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতায় থেকে ক্ষমতায় ফিরে আসার রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে এগিয়ে যাবে দলটি। আর দেশের শান্তিপুর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাসহ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধানের কার্যক্রম নিয়ে এগিয়ে যাবে প্রশাসন। সরকারের উচ্চ পর্যায় ও ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের সুত্রগুলো জানায়, আগামী দিনগুলোতে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ঘোলা করতে দেয়া হবে না। খালেদা জিয়ার মুক্তির নামে সরকার বিরোধী আন্দোলনের হুমকি-ধামকি মোকাবেলা করেই এগিয়ে যাবে প্রশাসন ও সরকারী দলের নেতাকর্মীরা। সভা সমাবেশের নামে দেশের কোথাও বিশৃংখলা যাতে না করতে পারে সেজন্য বিএনপির কর্মসূচির উপর কঠোর নজরদারি রাখা হবে।
বিএনপির আন্দোলন নিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আইনি বাধায় কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে সেক্ষেত্রে সরকারের কোন দায় নেই। তবে সরকার চায় না কাউকে নির্বাচনের বাইরে রেখে নির্বাচন করতে।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি পারবেন না এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের দুই রকম রায় আছে। তাই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিম কোর্ট ও নির্বাচন কমিশন। এখানে সরকারের কোন ভূমিকা নেই। আদালতে খালেদা জিয়ার সাজা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তিনি এখন হাইকোর্টে আপিল করতে পারেন। চাইলে জামিনের আবেদন করতে পারেন। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন আদালত। এখানে সরকারের কিছু করার নেই। যেখানে সরকারের কিছু করণীয় নেই, সেখানে হুমকি-ধামকিতে সরকার ভীত হবে না। এখানে সংঘাতের কোন প্রশ্ন নেই।
তিনি বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আইন সকলের জন্য সমান, কেউ আইনের উর্দ্ধে নয়। এসব ব্যাপারে কোন হুমকি-ধামকিতে আইনের কোন ব্যত্যয় ঘটবে না। এটাই হচ্ছে পরিষ্কার কথা।
ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতা জানান, দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া ও তার ছেলে লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া একরম অনিশ্চিত বলেই একাদশ সংসদ নির্বাচন ভন্ডুলের ষড়যন্ত্র করতে পারে বিএনপি। বিএনপি যাতে নির্বাচন ভন্ডুল করতে না পারে সেজন্য দলের কেন্দ্রীয় থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সজাগ রয়েছেন। একাদশ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকারের প্রশাসনও তার আইনি কাঠামোতে এগিয়ে যাবে।
সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার জামিন সংক্রান্ত বিষয় আইনী প্রক্রিয়ায় না গিয়ে বিএনপি যদি সংঘাতের দিকে যায় তাহলে ক্ষমতাসীন দল তাদের আগামী দিনগুলোর রাজনৈতিক পরিকল্পনাও বদলাতে পারে। রাজনৈতিক কৌশলেও পরিবর্তন হবে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, খালেদা জিয়ার সাজা দিয়েছে আদালত। আমরা মামলাও করিনি, রায়ও দেইনি। এতে আমাদের উৎসাহ নেই, আফসোসও নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। একাদশ সংসদ নির্বাচনে উন্নয়নই হবে আমাদের হাতিয়ার। দেশে যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে, আশা করি জনগণের ভোটে আমরা আবারো ক্ষমতায় আসব। দলের কেন্দ্রীয় একাধিক সাংগঠনিক সম্পাদক বলেছেন বিএনপির নেত্রী আদালতের রায়ে দণ্ডিত হয়েছেন। বিএনপির দ্বিতীয় নেতাও দণ্ডিত। তিনি পলাতক। বিএনপি মানেই দুর্নীতি-লুটপাট আর মানুষ খুন করা এটি এখন প্রমাণিত। অপরদিকে এ মুহূর্তে দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার সততা, দক্ষতায় দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতার জন্য দেশবাসী একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকাকেই বেছে নেবে। কোনো দুর্নীতিবাজকে দেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রী বানাবে না।
আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন আগামী সংসদ নির্বাচনের আগেই প্রকাশ্যে না হলেও ভেতরে ভেতরে বিএনপির নেতাদের সাথে আলোচনা-সংলাপ হতেও পারে। রাজনীতির শেষ বলতে কিছু নেই। তবে বিএনপিকে ছাড় দিয়ে কিছু হবে না। নেতারা বলেন, নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ করা না করা নিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সমঝোতার বৈঠক করবেন তার দলের নেতারা। আওয়ামী লীগ নয়। এখানে আইন ও রাজনীতির ধারা পৃথক লাইনেই চলবে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft