বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোরে মাতৃত্বকাল ভাতা প্রদান কর্মসূচি
হতদরিদ্রের ভাগ মাত্র ২ শতাংশ
এস এম আরিফ :
Published : Wednesday, 5 December, 2018 at 1:42 AM
হতদরিদ্রের ভাগ মাত্র ২ শতাংশদরিদ্র মায়েদের জন্য সরকারের মাতৃত্বকাল ভাতা কমর্ সূচির সুফল পাচ্ছেনা দরিদ্র জনগোষ্ঠী। যশোর জেলায় সুবিধাভোগীদের ৯২ ভাগই সরকারের বেধে দেয়া শর্ত অনুযায়ী হতদরিদ্র নয়। শর্ত লংঘন করে বেশীরভাগ জায়গাতেই স্বচ্ছল, এমনকি ধনীদেরও ভাতা দেয়া হয়েছে। মাত্র দুই ভাগ মা সত্যিকার অর্থে অতিদরিদ্র পরিবারের।
আটটি উপজেলার ৯৩ টি ইউনিয়নে চারশোর বেশী ভাতাভোগীর সাক্ষাৎকার ভিত্তিক জরিপ থেকে এমন ফলাফল পাওয়া গেছে। এবছর ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে গ্রামের কাগজের ১৬ জন প্রতিবেদক সরেজমিনে ঘুরে তাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন।
টানা ১০ মাসের এই অনুসন্ধানে গ্রামের কাগজ দল উত্তর খুঁজেছে, কেন গরীবরা সরকারের এই সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, এই কার্যক্রম থেকে কারা বেশী সুবিধা পাচ্ছে, এমন পরিস্থিতির জন্য কারা দায়ী আর কী করলে সত্যিকারের অভাবী মানুষের কাছে এই সুবিধা পৌছে দেয়া যাবে।
ভাতাভোগীদের বাইরে প্রতিবেদকরা কথা বলেছেন বঞ্চিত মা, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, এনজিও কর্মী, সরকারী কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞসহ অন্তত ১০০ ব্যক্তির সাথে, যারা এই প্রক্রিয়ার সাথে সরাসরি জড়িত। সেখান থেকে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দায়িত্বে অবহেলা, এমনকি নীতিমালায় দুর্বলতার মতো নানা বিষয় উঠে এসেছে।
 অনুসন্ধানের ফলাফল তুলে ধরা হয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনিস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুরের কাছে। তিনি বলেন, “বিষয়টি উদ্বেগজনক। গরীবরা না পেয়ে ধনীরা ভাতা পাওয়ার কারণে এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে”। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সরকারের মাঠ পর্যায়ে যে নিয়ন্ত্রণ থাকা দরকার সেটা হচ্ছে না। উপযুক্ত দরিদ্র মায়েদের এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে মূল কাজ হবে যথাযথ তদারকি। প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে উপজেলা কমিটি প্রতিটি বাড়ি সরেজমিনে একবার পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শনের পর উপজেলা কমিটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে পুনরায় উন্মুক্ত জনসভায় চুড়ান্ত ভাতাভোগী নির্বাচন করবেন। সদস্যরা ম্যানেজ হয়ে না গেলে এ পদ্ধতি অনেকটাই  সমস্যার সমাধান দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সার্বিক চিত্র
সমাজের অতিদরিদ্র মায়েদের কল্যাণে ২০০৭ সালে মাতৃত্বকাল ভাতা কার্যক্রম চালু করে সরকার। এটি প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম অগ্রাধিকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। এর আওতায় একেকজন দরিদ্র মা গর্ভধারণের পর থেকে দুই বছর পর্যন্ত ভাতা পান।  ২০১৬-১৭ অর্থবছরকে ভিত্তি ধরে যখন এই অনুসন্ধান শুরু হয়, তখন একেকজন ভাতাভোগী মাসে ৫০০ টাকা করে পেতেন; যা ছয় মাসের কিস্তি হিসেবে তারা নিজ ব্যাংক একাউন্ট  থেকে উত্তোলন করতে পারেন।
২০১৬-১৭ অর্থবছরকে অনুসন্ধানের ভিত্তি বছর ধরার কারণ হলো, এই বছরে তালিকাভুক্ত ভাতাভোগীরা টাকা পেতে শুরু করেছিলেন এবং অনুসন্ধান চলাকালীন সময়ে দুই কিস্তির টাকাও উত্তোলন করেছিলেন। দরিদ্র মায়েরা ঠিক মত টাকা পাচ্ছেন কিনা তা দেখার জন্য যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।
এর পরের অর্থবছরে মাতৃত্বকাল ভাতা নীতিমালায় কিছুটা পরিবর্তন আসে। ভাতার অংক পাঁচশ থেকে বেড়ে আটশো টাকা হয়। কিন্তু হতদরিদ্রের সংজ্ঞা বা বাছাইয়ের মৌলিক শর্তগুলোতে তেমন কোন পরিবর্তন আসেনি।
এই কর্মসূচিতে কারা ভাতা পাবেন তার একটি নীতিমালা আছে। সেটি অনুযায়ী, দরিদ্র মা তারাই যাদের পারিবারিক আয় মাসে দুই হাজার টাকার নিচে, শুধু বসত ভিটা আছে বা অন্যের জমিতে বাস করেন এবং কোন আবাদী জমি বা মাছের খামার নেই। অথচ উপকারভোগী বাছাইয়ের সময় আটটি উপজেলার কোথাও পরিবারের আয়ের বিষয়কে আমলে আনা হয়নি।
চারশোর বেশী ভাতাভোগীর সাক্ষাতারের ভিত্তিতে পাওয়া জরিপ ফলাফলে দেখা গেছে, আয় মাসে ২০০০ টাকার নিচে এমন মায়ের সংখ্যা মাত্র ২ শতাংশ। এর মধ্যে ৬ শতাংশ আয় সম্পর্কে কোন প্রশ্নের উত্তর দেননি। সেই হিসেবে শতকরা ৯২ ভাগ ভাতাভোগী সরকারি শর্ত অনুযায়ী হতদরিদ্র নন।
জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, যশোরের আট উপজেলায় যারা মাতৃত্বকাল ভাতা পাচ্ছেন তাদের পরিবারের গড় মাসিক আয় ৯ হাজার ৯৮ টাকা। যা কিনা দারিদ্র্যের যে সীমা দেয়া আছে তার সাড়ে চার গুণ। শুধু তাই নয়, একেকটি পরিবার গড়ে ২৬.৮ শতক জমির মালিক।
একাধিক জনপ্রতিনিধি গ্রামের কাগজকে বলেছেন, ভাতাভোগী বাছাইয়ের সময় ২০০০ টাকার নিচে আয় এমন পরিবার তারা খুঁজে পান না। তাদেরই একজন, বেনাপোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বজলুর রহমান। তিনি বলেন, “এখন গ্রামে দুই হাজার টাকার নীচে আয় করে এমন পরিবারের সংখ্যা খুব বেশী নয়। তাই ভাতাভোগী বাছাইয়ের সময় তাদেরকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কিন্তু ভাতা তো কাউকে না কাউকে দিতে হবে।”
অথচ সরকারের সবশেষ খানা জরিপ অনুযায়ী, যশোর জেলার ২১ ভাগ মানুষ চরম দরিদ্র্য।

ভাতাভোগী বাছাইয়ে বৈষম্য
যশোরের প্রতিটি উপজেলাতেই ভাতাভোগী বাছাইয়ে ব্যাপক বৈষম্য উঠে এসেছে এই অনুসন্ধানে। যারা সত্যিকার অর্থে দরিদ্র তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। যারা সম্পদশালী অথবা যাদের সাথে এলাকার প্রভাবশালীদের যোগাযোগ আছে তারা সুবিধা পেয়েছেন।
এই চিত্র দেখা যায় জরিপ ফলাফলেও। যশোর সদর উপজেলায় যারা ভাতা পেয়েছেন  সেসব পরিবারের গড় আয় ১৫ হাজার টাকার বেশী। দেশে ২শতকের কম জমি থাকলে তাকে দরিদ্রধরা হয়। অথচ সদরের ৯০ ভাগ সুবিধাভোগী এর চেয়ে বেশী জমির মালিক। শুধুতাইনা ভাতা পাচ্ছেন এমন প্রতি পাঁচ পরিবারের একটির ২০ শতকের বেশী জমি রয়েছে।
অন্তত ৫০জন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন, দ্বারে দ্বারে ঘুরেও অতি দরিদ্র পরিবারের মায়েরা ভাতার তালিকায় নাম উঠাতে পারেননি। উপকারভোগী বাছাইয়ে এমন বৈষম্যের জন্য তারা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও চেয়ারম্যানদের স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারকে দায়ী করেছেন।
উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, চাউলিয়া গ্রামে দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করা দরিদ্র মা সোমার কথা। অভাবের কারণে বছর দুয়েক আগে স্বামী তরিকুলসহ তাকে আশ্রয় নিতে হয় বাবার বাড়িতে। টালির ছাউনি দেয়া দুই কক্ষের মাটির ঘরে দুটি পরিবার থাকছে গাদাগাদি করে। রাজমিস্ত্রী বাবা আব্দুর রাজ্জাকের একমাত্র সম্বল এই বসত ভিটা। নিজের আয় দিয়ে সংসার চালানো দায়। সেখানে নতুন করে মেয়ের পরিবারের বোঝা।  
ঠিক এমন অবস্থায় সোমা গর্ভধারণ করেন। ২০১৬ সালের জুলাই মাসে সেই সময়টাতে সন্তানসম্ভবা মেয়ের পরিচর্যা তো দূরের কথা, খাবার যোগাতেই হিমসিম খেতে হয় রাজ্জাককে। তখন থেকেই ইউনিয়নের মেম্বার-চেয়ারম্যানের কাছে ছোটাছুটি। আশা, যদি সরকারের মাতৃত্বকাল ভাতা মেলে। কিন্তু সেই তালিকায় তার নাম ওঠেনি।
এই প্রতিবেদকের কাছে সোমার মা হালিমা বেগম বলেন, “পোয়াতি মেয়ের ভালমন্দ খাওয়ানো দূরে থাক তিনবেলা খাবারের জন্য লড়াই করতে হয়েছে। এলাকার মোড়ল মাতব্বরদের দ্বারে ঘুরেছি সহায়তার জন্য। কিন্তু ভাগ্যে কিছু জোটেনি।
এলাকার সবার অভিযোগের তীর স্থানীয় সরকার দলীয় নেতা আবুল কাশেম বিশ্বাসের দিকে। যিনি তার পছন্দ মাফিক ভাতাভোগী নির্বাচন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে একই পাড়ার সমাজ সেবক ওলিয়ার গাজী জানান, সরকারের নানা উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ে ভেস্তে যাচ্ছে স্থানীয় গুটিকতক নেতৃবৃন্দের ব্যক্তিস্বার্থের কারনে। আবুল কাশেম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতা হিসাবে শুধু মাতৃত্বকালীন ভাতাই নয়, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সব সুবিধাতে নয়ছয় করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নরেন্দ্রপুর আওয়ামীলীগ সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, এ সব বিষয়ে তার কোন বক্তব্য নেই। ভাতা প্রদান ও সরকারি সহায়তা প্রদান করেন ইউপি চেয়ারম্যান আর মেম্বাররা। কে পাচ্ছে কি পাচ্ছে না এ বিষয়ে তার জানা নেই।
এই চিত্র যে শুধু যশোর সদরে তা নয়। মনিরামপুর উপজেলার ভোজগাতি ইউনিয়নের কথাই ধরা যাক। এখানকার দোনার গ্রামের এক কুড়েঘরে থাকেন অরবিন্দু দাস ও তার ছয় সদস্যের পরিবার। তার স্ত্রী একই সময়ে সন্তানসম্ভবা হন। এলাকার ইউপি সদস্যের কাছে মাতৃত্বকাল ভাতা চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু তালিকায় তার নাম ওঠেনি।
গরীব এই পাড়ার এমন পাঁচটি পরিবারের সাথে এই প্রতিবেদকের সরাসরি কথা হয়। এদের মধ্যে কারো পেশা দিনমজুরি, কারো ভ্যান চালনা, কেউ ফেরিওয়ালা কারো  পেশা নিছক মাছ ধরার ঘুণী তৈরী। সব পরিবারের গল্প একই। তাদের স্ত্রীরা অনেক চেয়েও মাতৃত্বকালীন ভাতা পাননি।
অথচ ভাতা পেয়েছেন একই গ্রামের তুষার চন্দ্র দাসের স্ত্রী লিপিকা রাণী। যশোর সরকারি সিটি কলেজের চাকরি, পাকা ইটের বাড়ি, পোষা গরু,; সবই আছে তুষারের।
কেন ভাতার তালিকায় নাম ওঠেনা গরীবের, কেন এই তালিকায় স্বচ্ছলের ছাড়াছড়ি এমন প্রশ্নের জবাবে উত্তরও প্রায় একই। ভ্যান চালক সুশান্ত দাসের বউ আরতী, কলার পাতা কেটে বিক্রি করা কাকলী কিম্বা দিনমজুর আজাদ মোল্লার বউ রুনা বেগম, সবারই অভিযোগ, ভাতা পাওয়ার জন্য যে টাকা লগ্নি করতে হয় সেটা তাদের নেই বলে তালিকায় নাম ওঠেনি।

বৈষম্যের নেপথ্যে দুনীতি ও স্বজনপ্রীতি
বৈষম্য ও বঞ্চনার এমন শতশত গল্প আছে যশোর জুড়ে। জরিপের ফল বলছে, চৌগাছায় যারা ভাতা পেয়েছেন, তাদের ৪০ ভাগ পরিবারের আয় মাসে ছয় হাজার টাকার বেশী। উপকার ভোগীদের ৩৪ ভাগেরই জমি আছে ২০ শতকের বেশী।  যেমন: ভাদড়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী আহম্মদ আলীর মেয়ে পাপিয়া।
ভাইকে স্বামী সাজিয়ে কীভাবে পাপিয়াকে ভাতা দেয়া হয়েছে, তা বিস্তারিত উঠে এসেছে ভাতা বিতরনে দুর্নীতি নিয়ে গ্রামের কাগজের আলাদা প্রতিবেদনে। বিষয়টি নিয়ে ধুলিয়ানী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক  ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম বলেন, ধনী পরিবারের এক মাকে ভাতা দিতে এত আয়োজন, কারণ ইউপি চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান পাপিয়ার বাবার মামাতো ভাই। তাই পাপিয়া বাড়িতে না থাকলেও কার্ড পৌঁছে গেছে।
শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত ১৫ জনের উপর অনুসন্ধান চালানো হয়। এরমধ্যে ছয়জনেরই পাকা বাড়ি, মাঠে জমি, ব্যবসা ও বিভিন্ন ধরনের ফার্ম রয়েছে। যেমন টেংরালী গ্রামের বিউটি বেগম। তার স্বামী সাহাজান আলী দীর্ঘদিন মালয়েশিয়া প্রবাসী। শহরের আদলে ছয়শতক বাস্তুভিটায় চার কক্ষের পাকা দালান বাড়ি । অর্থ বৈভবে সমৃদ্ধ হয়েও বিউটি বেগম ভোগ করছেন দরিদ্র মায়ের ভাতা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার কয়েকজন ভাতাবঞ্চিত মা অভিযোগ করেছেন, তালিকার ৪৯ নম্বরে বিউটির নাম ঢুকেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য মফিজুল ইসলামের হাত দিয়ে। অথচ এই গ্রামেরই দরিদ্ররা থেকে গেছেন সুবিধার বাইরে।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মফিজুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি একরকম হুমকি দিয়ে বলেন, অভিযোগকারী যেন পারলে তার সামনে এসে একথা বলেন।

ভুগছে দরিদ্র মা ও শিশু

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দরিদ্র মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদানের একটি নীতিমালা পাওয়া যায়। সেখানে কারা ভাতা পাবেন তার নয়টি শর্ত দেয়া আছে। তার মধ্যে দুটি দারিদ্র্যের অবস্থা সংক্রান্ত। কিন্তু ২০১৫ সালের সংশোধিত এই নীতিমালায় এই দুটি শর্তকে আবশ্যিক করা হয়নি। নীতিমালায় এমন অসংগতি আলাদা প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো মূলত  মাতৃ ও শিশু মৃত্যু আরো কমিয়ে আনা, গর্ভাবস্থায় উন্নত পুষ্টি উপাদান গ্রহণ বৃদ্ধি, মাতৃদুগ্ধ পানের হার বৃদ্ধি ইত্যাদি। কিন্তু ড. মনসুর বলছেন, ভাতাভোগী বাছাইয়ে এমন অনিয়ম ও বৈষম্যের কারণে এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য অর্জন ব্যহত হচ্ছে। যা একই সাথে সরকারি অর্থেও অপচয় ঘটাচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির কারণে গোটা কর্মসূচি অনেকাংশে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও আর্থিক লেনদেন, ঘুষ বা দুর্র্নীতি ঠেকাতে হলে জন সম্মুখে ভাতাভোগী নির্বাচনের বিকল্প নেই বলে অভিমত ব্যক্ত করে তিনি।
ভাতাভোগী বাছাইয়ে অনিয়ম ও বৈষম্যের প্রত্যক্ষ শিকার হচ্ছেন মা ও শিশুরা। এর প্রভাব যে শুধু শারীরিক তা নয়। এতে সামাজিকভাবেও তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। যেমন:  শার্শা উপজেলার নারকেলবাড়িয়া গ্রামের মিতা খাতুন। তিনি দিনমজুর নূর হোসেনের স্ত্রী। সন্তান জন্ম দেয়ার পর পরিবারে অভাব এতোটাই বেড়েছে, যে মিতাকে সন্তান রেখে অবৈধ শ্রমিক হিসেবে ভারতে কাজে যেতে হয়েছে।
চাউলিয়া গ্রামের কৃষি শ্রমিক আব্দুল কাদেরের স্ত্রী রোজিনা বেগমও চলতি বছর মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগীর তালিকায় নাম ওঠাতে ব্যর্থ হন। দারিদ্রতা আর অপুষ্টির শিকার হয়ে এক পর্যায়ে মরতে বসেছিল তার গর্ভের সন্তান।
৫ মে রোজিনার শারিরীক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ভর্তি করা হয় যশোর ২৫০ শয্যা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ওই দিন রাতে রোজিনা প্রসব করেন একটি পুত্র সন্তান। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের শিকার হন মা রোজিনা। শিশু সোবহানের জীবন মৃত্যু নিয়েও দেখা দেয় অনিশ্চয়তা।
ধারদেনা করে শ্রমিক আব্দুল কাদের চালান স্ত্রী আর সন্তানের চিকিৎসা ব্যয়। আব্দুল কাদের জানান, ‘সরকারের সহযোগিতা আমাগের জন্যি না, সবাই তেলা মাতায় তেল দেয়। আমার বউ আর বাচ্চাডা আল্লাহ যদি হাতে কইরে ফিরোয় দেয় তাতেও হাজার শুকরিয়া। দরকার হলি যেটুক ভিটে মাটি আচে তাও বেঁচে দেব তবু যেন হাসপাতালতে আমারে খালি হাতি ফিত্তি না হয়’।



 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft