সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯
শিক্ষা বার্তা
২৫ বছর পর প্রাণ পাচ্ছে যশোরের ৬৫ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা
দুর্দশা কাটবে ২৭৩ শিক্ষকের
এম. আইউব :
Published : Tuesday, 2 July, 2019 at 6:10 AM
দুর্দশা কাটবে ২৭৩ শিক্ষকেরদীর্ঘ ২৫ বছর পর বেতন কাঠামোর আওতায় আসছে যশোরের ৬৫ টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা। কপাল খুলছে শিক্ষকতা ছেড়ে জীবন বাঁচাতে অন্য পেশায় যাওয়া ২শ’৭৩ শিক্ষকের। খুব তাড়াতাড়ি এসব শিক্ষককে বেতন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বেতন প্রদান শুরু করলে অস্তিত্বহীন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে। আগমন ঘটবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। শিক্ষকদের হতাশা দূর হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে সারাদেশে মোট ১৮ হাজার ১শ’৮৯টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার নিবন্ধন দেয় সরকার। এর মধ্যে ১৯৯৪ সালে এক হাজার ৫শ’১৯টি মাদ্রাসার শিক্ষকদের পাঁচশ’ টাকা করে অনুদান দেয়া শুরু হয়। একই সময় সমান অনুদান পাওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ইতোমধ্যে সরকারি করা হয়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন ভাতাসহ অন্যান্য সব সুযোগ সুবিধা। অথচ ১৯৯৪ সালে পাঁচশ’ টাকা করে পাওয়া এক হাজার ৫শ’১৯টি মাদ্রাসার শিক্ষকদের ভাগ্যের শিকে ছেড়েনি।
যশোর জেলা শিক্ষা অফিস থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, জেলায় মোট ৬৫ টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা রয়েছে। যার শিক্ষক রয়েছেন ২শ’৭৩ জন। ৬৫ টি মাদ্রাসার মধ্যে সদর উপজেলায় ১১ টি, শার্শায় ৫ টি, অভয়নগরে ২ টি, চৌগাছায় ৫ টি, কেশবপুরে ১৬ টি, মণিরামপুরে ২৩ টি, বাঘারপাড়ায় ১ টি ও ঝিকরগাছায় ২ টি রয়েছে।
সদর উপজেলার ১১ টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা হচ্ছে, শ্যামনগর, খোলাডাঙ্গা, জয়ন্তা, ভগবতীপুর, হাটবিলা, ডহরসিঙ্গা, আন্দোইলপোতা, আজমতপুর, আরিজপুর, রূপদিয়া ও বসুন্দিয়া।
শার্শার পাঁচটি হচ্ছে, অগ্রভুলট, ঘিবা দারুল উলুম, দীঘিরপাড় দক্ষিণ কাগজপুকুর, হরিচন্দ্রপুর ও পুটখালী।
অভয়নগরের দু’টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা হচ্ছে, গোপীনাথপুর ও দীঘিরপাড়।
চৌগাছার পাঁচটি হচ্ছে, কাবিলপুর, চাঁদপুর, মাড়–য়া, স্বরূপদাহ ও রায়নগর। বাঘারপাড়ার একটি হচ্ছে, পাঠানপাইকপাড়া। ঝিকরগাছার দু’টি হচ্ছে, শিমুলিয়া ও খোশালনগর। কেশবপুরের ১৬ টি হচ্ছে, কড়িয়াখালী, পরচক্রা, সাবদিয়া, সাতবাড়িয়া, মির্জানগর নবাববাড়ি, বেতীখোলা, রয়নাবাজ, ঝিকরা, কন্দপপুর, সানতলা, মঙ্গলকোট, মাগুরখালি, সন্ন্যাসগাছা, বাগদহা মসজিদ সংলগ্ন, বাউশলা ও কেসমত সানতলা।  
মণিরামপুরের ২৩ টি হচ্ছে, পোড়াডাঙ্গা, রূপসপুর, হুরগাতি, ফতেয়াবাদ, লক্ষিকান্তপুর, রতেœশ্বরপুর, খাটুয়াডাঙ্গা, পাঁচাকড়ি, বাদিধা, গালদা, কাটাখালী, দক্ষিণ শ্যামকুড় গাউছিয়া, শ্যামকুড় মাঝেরপাড়া, কাজিয়াড়া, নওয়াপাড়া, জয়পুর উত্তরপাড়া, আজহারুল, রসুলপুর, কাশিপুর-ঘুঘুরাইল, আহমদ আলী, সিংহের খাজুরা, ইচানী ও ঝাঁপা পূর্বপাড়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সদর উপজেলার ১১ টি মাদ্রাসায় ৪৯ জন, শার্শার পাঁচটিতে ১৯ জন, অভয়নগরের দু’টিতে ৮ জন, চৌগাছার ৫ টিতে ১৯ জন, কেশবপুরের ১৬ টিতে ৬৮ জন, বাঘারপাড়ার একটিতে ৪ জন, ঝিকরগাছার দু’টিতে ৮ জন এবং মণিরামপুরের ২৩ টিতে ৯৮ জন শিক্ষক যোগদান করেছিলেন। তবে, মণিরামপুরের এ শিক্ষক সংখ্যা দু’একজন কমবেশি হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।
১৯৮৪ সালে সর্বপ্রথম স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা শুরু হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কোনো রকম সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ায় অনেকেই জীবন-জীবিকা চালানোর তাগিদে শিক্ষকতা ছেড়ে দেন। একইভাবে ১৯৯৪ সালে সর্বপ্রথম প্রত্যেক শিক্ষককে পাঁচশ’ টাকা করে ভাতা দেয়া শুরু করলে অনেকেই আশায় বুক বাধেন। তারা আশায় ছিলেন, দু’ চার বছরের মধ্যে তাদের একটি গতি হবে। কিন্তু সেটি হয়নি। কেবল হয়নি বললেই কম বলা হবে। দীর্ঘ ২৫ বছরের মধ্যে সুরাহা হয়নি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী শিক্ষকদের বিষয়টি। এ কারণে শিক্ষকরা যে যার মতো বিভিন্ন পেশায় চলে গেছেন। বেশিরভাগ মাদ্রাসার অস্তিত্ব নেই। নেই কোনো শিক্ষার্থীও। দীর্ঘদিন পর বেতন কাঠামোর মধ্যে আনার ঘোষণায় অনেকেই নতুন করে আশায় বুক বেধেছেন।
এদিকে, যশোরের ২শ’ ৭৩ জন শিক্ষক একসাথে বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন নাকি পর্যায়ক্রমে, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই জেলা শিক্ষা অফিসে। শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা এ সংক্রান্ত তেমন কিছু জানাতে পারেননি। শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষা অধিদপ্তর তাদের কাছে যেটুকু তথ্য চেয়েছিল ঠিক ততটুকুই রয়েছে। বেতন প্রদান সংক্রান্ত কোনো তথ্য তাদের জানা নেই।  
এদিকে, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা স্থাপন, স্বীকৃতি, পরিচালনা, জনবল কাঠামো এবং বেতনভাতা, অনুদান সংক্রান্ত নীতিমালা ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর জারি করেছে সরকার। নীতিমালায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রাথমিক শিক্ষকের সমান মর্যাদা দেয়া হয়। নীতিমালা অনুযায়ী ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় প্রধান শিক্ষকসহ চারজন শিক্ষক থাকবেন। তাদের মধ্যে একজন ইতবেদায়ী প্রধান, দু’জন ইবতেদায়ী সহকারী শিক্ষক এবং একজন ইবতেদায়ী ক্বারি শিক্ষক। ইবতেদায়ী প্রধান ১১তম গ্রেডে বেতন পাবেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) বেতনের গ্রেড ১১তম। তবে, নীতিমালা অনুযায়ী, ইবতেদায়ী সহকারী এবং ক্বারি শিক্ষক বেতন পাবেন ১৬তম গ্রেডে। বর্তমানে নিবন্ধিত ইবতেদায়ী প্রধান শিক্ষকরা দু’ হাজার পাঁচশ’ টাকা এবং সহকারী শিক্ষকরা দু’হাজার তিনশ’ টাকা সরকারি অনুদান পাচ্ছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft