রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
সারাদেশ
আরেক ডিআইজির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
কাগজ ডেস্ক :
Published : Friday, 5 July, 2019 at 3:15 PM
আরেক ডিআইজির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের মধ্যেই পুলিশের আরেকজন অতিরিক্ত ডিআইজির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অস্ত্রের মুখে একটি পরিবারের অন্তত ৬০ কোটি টাকা মূল্যের ৬২ বিঘা তাদের জমি ও গাড়ি-বাড়ি লিখে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় অতিরিক্ত ডিআইজি (উন্নয়ন-২) গাজী মোজাম্মেল হক, তার স্ত্রী ফারজানা মোজাম্মেলসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে আদালতে।
মামলায় বলা হয়েছে, পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা মিলে এই কাজ করেছেন। আর জমি লিখে নেওয়ার পর একাধিক মামলায় তাদের কারাগারে রাখা হয়েছে। ছাড়া পাওয়ার পর তাদের পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে হয়রানির ভয়ে।
গত ১৪ মার্চ মামলাটি করেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ৭০ বছরের বৃদ্ধ জাহের আলীর ছেলের স্ত্রী আফরোজা আক্তার আঁখি। আর এরপর আদালতের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দায়িত্বরত একজন হাকিম এরই মধ্যে চারজনের সাক্ষি গ্রহণ করেছেন।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছে, পুলিশ কর্মকর্তাদের আবাসিক প্রকল্প আনন্দ হাউসিংয়ের পরিচালক চৌধুরী মো. জাবের সাদেক, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক দীপক কুমার দাস, রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান, ডেমরার সাবরেজিস্ট্রার আফসানা বেগম, ইউনাইটেড ব্যাংকের নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান, দলিল লেখক জাকির হোসেন, জসিম উদ্দিন, আনন্দ পুলিশ হাউসিংয়ের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক এ বি এম সিদ্দিকুর রহমান, খোরশেদ আলম, তরিকুল মাস্টার, পুলিশ সদস্য সিদ্ধার্থ, গনেশ, পলাশ এবং সৈতক।
বিষয়টি নিয়ে মোজাম্মেল হকের ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা ধরেননি। এসএমএস পাঠানো হলেও জবাব আসেনি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, জাহের আলী ও তার ছেলেকে গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে আটকে রেখে জমিজমা লিখে নেয়া হয়। এরপর সাজানো প্রতারণার মামলায় তাদের দীর্ঘদিন কারাগারে আটকে রাখে পুলিশ।
এজাহারে বলা হয়, রূপগঞ্জ বক্তবাড়ি এলাকার বাসিন্দা জাহের আলীকে ফোন করে থানায় ডেকে নেয়ার পর থেকে তিনি বেশকিছু দিন নিখোঁজ ছিলেন। গত বছর ১০ জুলাই রূপগঞ্জ থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির ফোন করে তাকে থানায় যেতে বলেন।
এরপর জাহের আলী কয়েকজন বন্ধু ও মেয়ের জামাই আবু তাহেরকে সঙ্গে নিয়ে থানায় যান। সেখান থেকে তাদের পুলিশ সদরদপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর থেকে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। রাতে তারা ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা থানায় সাধারণ ডায়েরি-জিডি করতে যান। কিন্তু থানা জিডি না নিয়ে উল্টো তাদের এ নিয়ে আর ‘বাড়াবাড়ি না করার’ পরামর্শ দেওয়া হয়। ‘বাড়াবাড়ি করলে’ পরিবারের সবাইকে মেরে গুম করে নদীতে ফেলার হুমকিও আসে।
কয়েকদিন পর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, পুলিশ সদরদপ্তরে নিয়ে যাওয়ার পর জাহের আলী ও তার জামাইকে চোখ বেঁধে নির্জন স্থানে আটকে রাখা হয়েছে। এমনকি আটক থাকাবস্থায় ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে তাদের সব জমিজমা লিখে নিতে চাচ্ছে পুলিশ।
মামলার এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে বলা হয়- এরা একদলভুক্ত, ঠগ, প্রতারক, আইন অমান্যকারী, ভূমিদস্যু এবং অপরাধচক্রের সক্রিয় সদস্য। অপরাধ আমলে নিয়ে আদালতের কাছে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি অথবা ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের আদেশ চাওয়া হয়।
শুনানি শেষে আদালত ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের আদেশ দেয়। মামলাটি এখন মহানগর হাকিম ১৫-এর আদালতে বিচারাধীন।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft