সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
ভ্যান চালক থেকে গাড়ি বাড়ির মালিক
কোটিপতি চোর নুরপুরের রবিউল সিন্ডিকেটে ডিবির নজরদারি
অভিজিৎ ব্যানার্জী :
Published : Saturday, 6 July, 2019 at 1:39 AM

যশোরের শহরতলী নুরপুরের বহুলালোচিত চোর সিন্ডিকেট প্রধান রবিউল ইসলাম ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের উপর জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবির নজরদারি চলছে। ছয়টি চোরাই ইজিবাইকসহ আটকের পর জামিনে এসে সে আবার চোর ছিনতাইকারী চক্রকে সক্রিয় করেছে এমন তথ্য এসেছে। সংঘবদ্ধ ইজিবাইক ও চার্জার ভ্যান চোর ছিনতাইকারী সিন্ডিকেটের কাছ থেকে আরও চোরাই গাড়ি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। 
চার্জার ভ্যান চালক থেকে গাড়ি বাড়ির মালিক বনে যাওয়া রবিউলের দখলে আরও অনেক গাড়ি আছে বলে পুলিশের দাবি। প্রতি বছরে মৌসুমে মোসুমে মোটরসাইকেলের মডেল পাল্টিয়ে চলা রবিউল এলাকায় ফিরে নানা দম্ভোক্তি করছে। পুলিশ ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নানা মন্তব্য ছুঁড়ে বলছে ‘তাকে আটকে রাখা সহজ নয়।’ 
মাসাধিক তদন্ত করে যশোর ডিবি আন্ত জেলা চোরাই সিন্ডিকেট প্রধান ডাকাতিয়া নুরপুরের রবিউল ইসলামকে সনাক্ত করে। গত ২৩ মে অফিসার ইনচার্জ মারুফ আহমেদের নেতৃত্বে আইটি স্পেশালিস্ট এসআই শামীমসহ সঙ্গীয় ফোর্স যশোরের নীলগঞ্জ এলাকার কয়েকটি ডেরায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করে ৩টি চোরাই ইজিবাইক ও ৩টি চোরাই চার্জার ভ্যান। এসময় আটক হয় নুরপুরের জামাল ওরফে কানা জামালের ছেলে এ অঞ্চলের সংঘবদ্ধ চোর সিন্ডিকেট হোতা রবিউল ইসলাম। আরও আটক হয় যশোরের রামকৃষ্ণপুরের আব্দুল কাদেরের ছেলে হেলাল হোসেন, বাউলিয়ার আবু ইসহাকের ছেলে সিরাজুল ইসলাম, ডহরসিংহার গহর গাজীর ছেলে মোখলেছুর রহমান ও শার্শা গাতিপাড়া শালকোনার মোংলা সরদারের ছেলে লালন সরদার। আটকের পর তারা অনেক তথ্য দেয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও জানায়, তাদের চোরাই ব্যবসা ও চুরির নানা কাহিনী। 
এদিকে চোর সিন্ডিকেট হোতা রবিউলসহ ৫ জন আটক হওয়ার পর এসেছে আরও তথ্য। পুলিশ রিমান্ড চাইলেও আইনী মারপ্যাচে কুটকৌশল নিয়ে রিমান্ড এড়িয়ে এক সপ্তাহ আগে জামিনে আসে রবিউল। 
জামিনে এসেই তাকে ধরিয়ে দেয়া ও তার চোরাই সিন্ডিকেটের তথ্য পুলিশ ও সাংবাদিকদের কাছে দেয়ার ব্যাপারে এলাকার কয়েকজনকে সন্দেহ করে গালিগালাজ করাসহ ক্ষোভ প্রকাশ করছে রবিউল। স্থানীয় কয়েকটি দোকানের সামনে পুলিশ ও সাংবাদিকদের ঘিরে নানা মন্তব্য করছে বহু বিতর্কিত রবিউল। 
তথ্য এসেছে, শুধু চোরাই ব্যবসায়ই নয়, মাদক ব্যবসার সাথেও জড়িত এই রবিউল। তার অনৈতিক ব্যবসায় তার ভাই বিল্লালকেও কাজে লাগায়। ডিবি সূত্র জানিয়েছে, ২০১৪ সালে চোরাই মোবাইল ফোন বিকিকিনি করত সে। ২০১৫ সালে নিজেই চার্জার ভ্যান চালাতো রবিউল। পরে ২০১৬ সালে নসিমন চালাতো। এর মধ্যে হাত পাকিয়ে বনে যায় চোরাই সিন্ডিকেট প্রধান। চোরাই মাল বিকিকিনি ও মাদক ব্যবসা করে হঠাৎ সে কোটিপতি বনে যায়। সে এখন আলীশান বাড়ির মালিক। ভ্যান নসিমন ছেড়ে এখন চলে অ্যাপাসি আরটিআর গাড়িতে। রমজান মাসে আটকের কয়েকদিন আগেও রবিউল এলাকায় প্রচার করে এক জনপ্রতিনিধিকে  মাসে ১০ হাজার টাকা দিয়ে সে চোরাই ব্যবসা পরিচালনা করে। ওই জনপ্রতিনিধি তাকে রক্ষা করবে বলে বুলি আওড়ালেও আটক হয়ে যায় রবিউল। 
সূত্রের দাবি, রবিউল চোর সিন্ডিকেট তাদের ডেরায় ফেলে চোরাই গাড়ির পার্টস অন্যটিতে লাগিয়ে অনেক সময় রঙ পাল্টে বাইরের জেলায় পাঠিয়ে দেয়। চোরাই গাড়িগুলো ২০ হাজার টাকায় কিনে ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করে। চুরি ছিনতাই করা গাড়ি পরিচিত গ্যারেজে ফেলে নয়া পেন্টিং, নম্বর প্লেট পাল্টানোসহ যন্ত্রাংশ সংযোজন বিয়োজন করে হাত বদল করেছে এমন তথ্যে অভিযান জোরালো হয়। ডিবির ধরপাকড়ের সংবাদে গা ঢাকা দেয়া  সিন্ডিকেটের আরও কয়েকজনকে খোঁজা হচ্ছে। 
সূত্রটি দাবি করেছে, জামিন পেয়ে আগের মতোই চোরাই সিন্ডিকেট চালাচ্ছে। অপরিচিত লোকজন তার বাড়িতে আসা যাওয়া করছে। সম্প্রতি ডিবির হাতে আটক হওয়া ছাড়াও এর আগে ৩/৪ দফা পুলিশের হাতে আটক হয়। পরে মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে মুক্তি পেয়েছে। এক সময় চোরাই মোবাইল বিকিকিনি করে পেট চালানো রবিউল এখন বিভিন্ন ভার্সনের মাদক কারবারেও জড়িত। তার অপতৎপরতায় এলাকায় পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন নেতার সেল্টার নিয়ে এবং থানার কয়েক অফিসারকে টাকায় ম্যানেজ করে এর আগে চলেছে। জামিনে এসে স্বমূর্তিতে আবির্ভূত হওয়ায় তার আটক দাবি করেছেন স্থানীয়রা।  
এ ব্যাপারে যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মারুফ আহমেদ জানিয়েছেন, রবিউল জামিনে আসলেও তার সিন্ডিকেটে আরও অনেকে আছে। তাদের আটকে অভিযান চলছে। যশোর থেকে চুরি যাওয়া ইজিবাইক ও চোরাই মোবাইল সেট তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে। রবিউলের উপরও নজরদারি চলছে। রবিউল আটকের পর চক্রের অনেকে পালিয়ে যায়। পলাতকদের খোঁজা হচ্ছে। আবারও রবিউলকে হাতে নাতে আটক করা হবে। 




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft