রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোরে এ বছরেই বসছে প্রায় এক লাখ প্রি-পেইড মিটার ভেন্ডিং স্টেশন নির্মাণ শুরু
জাহিদ আহমেদ লিটন :
Published : Wednesday, 10 July, 2019 at 1:49 AM
যশোরে এ বছরেই বসছে প্রায় এক লাখ প্রি-পেইড মিটার ভেন্ডিং স্টেশন নির্মাণ শুরু
যশোরে প্রায় এক লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহকের ঘরে চলতি বছরেই পৌছে যাবে বিনামূল্যের প্রি-পেইড মিটার। ইতিমধ্যে এ প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে শহরের দুটি স্থানে চলছে ভেন্ডিং স্টেশন নির্মাণের কাজ। যার প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪০ লাখ টাকা। যশোরসহ ৪ জেলার দেড় লক্ষাধিক গ্রাহক এ প্রকল্পের আওতায় আসছে। অত্যাধুনিক নতুন এ মিটার চালুর পরই বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও চুরি বন্ধ হয়ে যাবে বলে কর্মকর্তারা আশা করছেন।
ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড যশোর সার্কেল সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ বিভাগের অনিয়ম, দুর্নীতি ও চুরি বন্ধে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের বিদ্যুতের গ্রাহকদের প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনা হচ্ছে। আর এ প্রকল্পের আওতায় প্রথমেই এ অঞ্চলের খুলনা জেলাকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। ইতিমধ্যে খুলনায় প্রি-পেইড মিটার বসানোর কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। একইসাথে বর্তমানে বাগেরহাট, পিরোজপুর ও সাতক্ষীরা জেলায় এ মিটার বসানোর কাজ চলছে। বিদ্যুৎ বিভাগের খুলনা জোনের আওতাধীন যশোর, সাতক্ষীরা, মাগুরা ও নড়াইল জেলা। এ জোনের আওতায় এখন প্রি-পেইড মিটার বসানোর কাজ চলছে সাতক্ষীরা জেলায়। যদিও এ মিটার বাতিলের দাবিতে খুলনাবাসী রীতিমত আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। আর সাতক্ষীরাবাসী মিটার বসাতে বাধা দিচ্ছে। তারা নতুন এ মিটারে নানা অসঙ্গতির কথা তুলে ধরছেন। 
এ বিষয়ে ওজোপাডিকো যশোর সার্কেলের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী নাসির উদ্দীন জানান, প্রি-পেইড মিটার প্রজেক্টের কাজ গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে যশোর সার্কেলে শুরু হয়েছে। চার জেলার আওতাধীন এ প্রজেক্টের কাজ প্রথমেই গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সাতক্ষীরা জেলায় শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলার প্রায় ২৮ হাজার গ্রাহকের মাঝে নতুন এ মিটার বসানো হয়েছে। এরপরে যশোরসহ তিন জেলার গ্রাহকের মাঝে নতুৃন প্রি-পেইড মিটার বসানো হবে। চার জেলার মোট ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৯৬ গ্রাহক এ প্রকল্পের আওতায় আসবে বলে তিনি জানান। ২০১৯ সাল থেকে শুরু হওয়া এ প্রজেক্টের কাজ শেষ হবে ২০২০ সালে।
এদিকে, প্রকল্পের শুরুতে যশোর শহরের চিত্রামোড়ে ডিভিশন-২ ও চাঁচড়া বিদ্যুৎ অফিসে ডিভিশন-১ এ দুটি ভেন্ডিং স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে। চিত্রামোড়ের বিদ্যুৎ অফিসের সামনের পুরাতন একটি ভবন ভেঙ্গে সেখানে নতুন একতলা ভবন নির্মান করা হবে। চলতি সপ্তাহে এ ভাংচুরের কাজ শুরু হয়েছে। আর চাঁচড়া বিদ্যুৎ অফিসের ভেতরেও অনুরূপ একটি ভবন নির্মিত হচ্ছে। এ দুটি ভবনের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪০ লাখ টাকা। নতুন প্রকল্পের দুটি অফিসই বিদ্যুৎ বিভাগের ওয়ান স্টপ সার্ভিস হিসেবে কাজ করবে। এখান থেকে প্রি-পেইড মিটারের কার্ড বিক্রি করা হবে। একইসাথে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রি-পেইড মিটারের কার্ড কেনা যাবে বলে কর্মকর্তারা জানান। এছাড়া, বিদ্যুৎ সংক্রান্ত ও মিটারের সকল অভিযোগ গ্রাহকদের ওয়ান স্টপ সার্ভিসেই করতে হবে এবং এখান থেকেই গ্রাহকের সকল সমস্যার সমাধান করা হবে।
প্রকৌশলী নাসির উদ্দীন বলেন, সাতক্ষীরায় প্রি-পেইড মিটারের কাজ শেষ হবার পর যশোরে শুরু হবে। যশোরের মোট ৮৩ হাজার গ্রাহককে বিনামূল্যে প্রি-পেইড অত্যাধুনিক নতুন এ মিটার প্রদান করা হবে। ওজোপাডিকোর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রাহকদের পুরনো মিটার খুলে নতুন প্রি-পেইড মিটার বসিয়ে দেবেন। এ জন্য গ্রাহককে বাড়তি কোন চার্জ দিতে হবে না। গ্রহকরা শুধুমাত্র কার্ডে নয় মোবাইল রিচার্জের মতোই, জি-পেইর মাধ্যমে বিদ্যুতের বিল রিচার্জ করতে পারবেন। এটি গ্রামীণ ফোনের জি-পেই এ্যাপ ব্যবহার করে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিজেরা প্রদান করতে পারবেন। আবার ফেলেক্সিলোডের মতো দোকান থেকেও রিচার্জ করা যেতে পারে। তবে মিটারে টাকা ব্যালেন্স না থাকলে সংযোগটি সংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, আপনার প্রি-পেইড মিটার একাউন্টে টাকা না থাকলে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। আবার রিচার্জ করলেই মিটারটি সংক্রিয়ভাবে চালু হবে। এক্ষেত্রে বাড়তি কোন ফি বা বিদ্যুৎ অফিস থেকে কাউকে ডাকতে হবে না। সরকারি ছুটির দিনে শুক্র ও শনিবার মিটারে ব্যালেন্স টাকা না থাকলেও সংযোগ চালু থাকবে। তবে রোববার বন্ধ হয়ে যাবে। আর রোববার টাকা রিচার্জ করার সাথে সাথেই সংযোগটি চালু হয়ে যাবে। তবে বন্ধ দু’দিনের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল কেটে নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে ওজোপাডিকো যশোর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহিদুল আলম বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের নতুন প্রকল্প প্রি-পেইড মিটার বসানোর কাজ যশোরে প্রাথমিকভাবে শুরু হয়েছে। তবে এ বছরের ডিসেম্বর মাস নাগাদ যশোরে এ প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু হবে। যশোরের প্রায় ৮৩ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক নতুন এ প্রকল্পের আওতায় আসবে। আর এতে গ্রাহক হয়রানি কমবে। মোবাইল ফোনের মত হিসাব করেই প্রি-পেইড মিটারে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে। এতে অপচয় কমবে। এ ক্ষেত্রে মানুষ আরো হিসাবী হয়ে উঠবে। একইসাথে বিদ্যুৎ বিভাগের বদনাম, দুর্নীতি ও চুরি কমবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রকৌশলী শহিদুল আলম বলেন, খুলনার পর এ অঞ্চলে সাতক্ষীরা জেলা থেকে গত ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন প্রি-পেইড মিটার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। যশোর, মাগুরা, সাতক্ষীরা ও নড়াইল সার্কেলের দেড় লক্ষাধিক গ্রাহক এ প্রজেক্টের আওতায় আসবে। আর এ কাজ শেষ হলে এ অঞ্চলের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন আসবে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের দিন শেষ হবে। তিনি বলেন, এ কাজে মূলত গ্রাহকরা উপকৃত হবেন। তারা যতটুকু বিদ্যুৎ খরচ করবেন। ঠিক ততটুকুই বিল প্রদান করবেন। এ কাজে তিনি কাউকে বিভ্রান্ত না হয়ে সকল গ্রাহকের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, বিনামূল্যে আধুনিকমানের এসব মিটার গ্রাহকদের বাড়িতে গিয়ে বসিয়ে দেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে কোন কাজের চার্জ দিতে হবে না। 




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft