বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
খাজুরায় তিন বছরেও শেষ হয়নি রাস্তা নির্মাণ কাজ
স্বেচ্ছাশ্রমে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা এলাকাবাসীর
খাজুরা (যশোর) অফিস :
Published : Sunday, 14 July, 2019 at 6:00 AM
স্বেচ্ছাশ্রমে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা এলাকাবাসীরযশোর সদর উপজেলার খাজুরার এনায়েতপুর-গোবরা রাস্তাটি এলাকাবাসীর গলার কাটায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ তিন বছরেও শেষ হয়নি রাস্তাটির নির্মাণ কাজ। ফলে, যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে এ রাস্তায় চলাচলকারী স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে এই বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তি প্রকট আকার ধারণ করেছে। তাই বাধ্য হয়ে এই দুর্ভোগ লাঘবে গ্রামবাসী নিজস্ব স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করতে উদ্যোগ নেয়। গত শনিবার সকাল ১০টার দিকে এনায়েতপুর ও গোবরা গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার শতাধিক লোক ঝুঁড়ি-কোদাল নিয়ে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করার কাজ করেছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত তিন বছর আগে যশোর এলজিইডির আওতায় রাস্তাটি পাঁকাকরণের কাজের টেন্ডার পান খালিদ নামে এক ঠিকাদার। দীর্ঘ দু’ বছর যাবৎ রাস্তাটি খুঁড়ে রাখে ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। সেই সাথে রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হয় নি¤œমানের ইট, খোঁয়া ও বালি। সিডিউল অনুযায়ী রাস্তা ১৪ ইঞ্চি খোঁড়ার কথা থাকলেও ১০-১২ ইঞ্চি খোঁড়া হয়। রাস্তার কাজে নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার, অনিয়ম ও কাজের অগ্রগতি না পেয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এলাকার শতাধিক লোক স্থানীয় সরকার যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করে। এ বিষয়ে পরদিন যশোরের স্থানীয় বেশ কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। ফলে ২০ ফ্রেবুয়ারী বুধবার সকালে সড়ক ও জনপদের সদর উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী জুলহাস উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি টিম সরেজমিনে রাস্তার কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি এলাকাবাসীকে জানান, সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশে তারা এসেছেন এবং রাস্তার টেন্ডার বাতিল করে নতুন এস্টিমেট অনুযায়ী পুনরায় রাস্তার কাজ শুরু হবে। বিতর্কিত ঠিকাদারকে এ কাজে আর অন্তর্ভুক্ত করা হবে না বলেও জানান।
এদিকে, ওই তদন্তের পাঁচ মাস পার হলেও শুরু হয়নি রাস্তাটির কাজ। দীর্ঘদিন রাস্তাটি খুঁড়ে রাখায় একদিকে রাস্তায় ফেলা খোঁয়া ও বালি সরে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, রাস্তার পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে বর্তমানে রাস্তাটি একেবারে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে, বাধ্য হয়ে গ্রামবাসী মনে চাপা ক্ষোভ নিয়ে নিজেরাই রাস্তায় চলাচলের উপযোগী করার কাজে নেমে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আন্দোলপোতা, কাঁঠামারা, দলেননগরসহ প্রায় ১০ গ্রামের মানুষের খাজুরা বাজারে আসার একমাত্র রাস্তা এটি। ওই এলাকার স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কর্মজীবী বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষসহ কৃষকের উৎপাদিত পণ্য খুব সহজেই এ রাস্তা হয়ে খাজুরা বাজারে আসতো। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ এই খোঁড়াখুঁড়ি ও বর্ষার পানি জমে রাস্তা চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হওয়ায় তাদের বাধ্য হয়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে মাঝিয়ালী-যাদবপুর হয়ে এ বাজারে আসতে হচ্ছে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft