শিরোনাম: মির্জা ফখরুলের কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্যে জাতি হতাশ : কাদের       ব্যবসায়ী ও ‍উদ্যোক্তাদের কম সুদে ঋণ দিন : বিএনপি       চীনকে সংহতি জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চিঠি       যাত্রীবাহী লঞ্চে হচ্ছে আইসোলেশন সেন্টার       মাস্ক ছাড়া বের হতে নিষেধ করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী       করোনা মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের ডাক বিএনপির       ফ্রান্সের ছয় শতাধিক সেনা করোনায় আক্রান্ত       চাঁদপুর মতলবে করোনা লক্ষণে নারীর মৃত্যু : ৫ বাড়ি লকডাউন       রাজশাহীতে একজন নার্সসহ ১২ জন করোনাভাইরাসে আক্রন্ত সন্দেহে ভর্তি       মালয়েশিয়ায় ৪০ হাজার মানুষের করোনায় আক্রান্তের সম্ভবনা, ডিআইজি      
নন ওয়ার্কিং পিরিয়ড হওয়ায় খনন কাজ বন্ধ রয়েছে
ভৈরব পাড়ের ৬৯ স্থাপনা উচ্ছেদ না হওয়ায় হতাশা
দেওয়ান মোর্শেদ আলম :
Published : Thursday, 12 September, 2019 at 6:18 AM
ভৈরব পাড়ের ৬৯ স্থাপনা উচ্ছেদ না হওয়ায় হতাশাবরাদ্দ ও কার্যাদেশের দেড় বছর পর সকল শঙ্কার অবসান ঘটিয়ে গত ২৮ জুলাই মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে ভৈরব নদ শহরের অংশ খনন শুরু হলেও দু’দিন পর ফের বন্ধ হয়ে যায়। দড়াটানা ও তার আশপাশে অলস পড়ে আছে স্কেভেটরগুলো। আবার  দু’পাড়ের বাকি ৬৯টি স্থাপনা উচ্ছেদের ঘোষণা দেয়া হলেও সেগুলো রয়েছে বহাল তবিয়তে। সব মিলিয়ে আশা-নিরাশার দোলাচলে যশোরের মানুষ। বাকি সব চ্যালেঞ্জ উপেক্ষা করে পাউবো কাঙ্খিত মাপে ও ডিজাইনে নদের খনন কাজ সম্পন্ন করতে পারবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন তারা। তাদের দাবি আইনি জটিলতার সমাধান পানি আইন হলেও শক্তিশালী ওই আইন প্রয়োগ করা হয়নি। যদিও পাউবোর নিবাহী প্রকৌশলীর দাবি নন ওয়ার্কিং পিরিয়ড চলছে, তাই কাজ বন্ধ। দ্রুতই খনন শুরু হবে। শহর অংশের চার কিলোমিটার দ্রুত খনন সম্পন্ন করতে ঠিকাদারকে দাগিদ দেয়া হয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দাবির মুখে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত ‘ভৈরব নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন’ প্রকল্পে (ভৈরব নদ পুনঃখনন) ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ২৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে নদী খননের কাজ শুরুর টার্গেট নিয়ে ১ জুলাই ২০১৭ থেকে শুরুর সিদ্ধান্ত নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। ২০১৯ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার টার্গেটও রাখা হয় প্রস্তাবনায়। কিন্তু ঠিকাদারি জটিলতায় পার হয়ে যায় ১৬-১৭ অর্থ বছর ও ১৭-১৮ অর্থ বছরের অর্ধেক সময়। আবার ঠিকাদারি জটিলতা কাটলেও খননে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ভৈরবের দু’পাড়ের ১শ ১৮টি কাঁচা-পাকা অবৈধ স্থাপনা। যে কারণে যশোর শহরের অংশ বাদ রেখে ২০১৮ সালের মার্চ মাসে খনন শুরু হয় শহরতলীর কনেজপুর থেকে। কনেজপুর, ফতেপুর ঘোড়াগাছি ও রাজারহাট অংশে ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে দাবি করে পাউবো শহরের অংশে জোরালোভাবে নজর দেয়। আইনি জটিলতা কাটিয়ে চলতি বছরের ২৮ মার্চ ভৈরব নদের শহরের অংশের দু’পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করে প্রশাসন। গুড়িয়ে দেয়া হয় ১০২টি স্থাপনা। উচ্ছেদের পর বাকি থাকে আরও ৬৯টি স্থাপনা।
গত ২৮ জুলাই ভৈরবের শহর অংশে দড়াটনা এলাকায় ৩টি স্কেভেটর আনা হয়। হাসান বুক ডিপোর মোড় থেকে খনন কাজ শুরু হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাজস্ব বিভাগ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এমটিএএসএ-এর সাইড ইঞ্জিনিয়াররা উপস্থিত থেকে প্রথম দিনের খনন কাজ শুরু ও তদারকি করেন। খনন কাজ শরু হলে উৎফুল্ল মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেন। কিন্তু দু’দিন পরেই থমকে যায় স্কেভেটর। কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রথম দিন পাড়ের মাটি খোঁচাখুঁচি চলে। দ্বিতীয় দিন ভেঙে নেয়া দোকানগুলোর কিছু মাটি লেভেল করা হয়। এর পর ৩০ জুলাই থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কেভেটরগুলো অলস পড়ে আছে।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ গ্রামের কাগজকে জানিয়েছিলেন, শহরের অংশ খননের পাশাপাশি এগিয়ে যাবে উচ্ছেদ। কোনো ওজর-আপত্তি দৌঁড়ঝাঁপ কাজে আসবেনা। নদীর প্লাবন ভূমিতে কোনো স্থাপনা বৈধ নয়। প্রয়োজনে পানি আইন ব্যবহার করা হবে। নদ সীমানার বাকি ওই ৬৯টি স্থাপনা থাকায় খনন পরিবেশ বিঘিœত হচ্ছে। কিন্তু আজতক ওই স্থাপনাগুলোতে হাত দেয়া হয়নি। প্রয়োগ করা হয়নি পানি আইন। পানি আইন আনুযায়ী নদীর প্লাবন ভূমিতে কোনো স্থাপনাই বৈধ নয়। ওই আইন বলে নদীর প্রয়োজনে সেগুলো ভেঙে দেয়ার এখতিয়ার  রাখে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোশ্বামী গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন, শহরের অংশ খনন শুরু হয়েই বন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনে বড় কোনো কারণ নেই। এখন নন ওয়ার্কিং পিরিয়ড চলছে। সাধারণত বর্ষার দু’মাস কাজ টেকসই হয়না। তাই কাজ বন্ধ রাখা হয়। বিশেষ করে মাটি কাজ এই নন ওয়ার্কিং পিরিয়িড মানা জরুরি। মাটি ধসে যেতে পারে। উপরের পানির ও তলদেশের পানির সাথে প্রতিকূল অবস্থা তৈরি হয়। তবে খননে ঠিকাদারি কোনো জটিলতা নেই। নন ওয়ার্কিং সময় হলেও ঠিকাদারকে জোর তাগিদ দেয়া হয়েছে শহরের চার কিলোমিটার কাজ দ্রুত শেষ করতে। টার্গেট সর্বোচ্চ নভেম্বর মাস। বাকি ৫৯ স্থাপনা উচ্ছেদে পাউবো, জেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ যৌথভাবে কাজ করবে।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft