শিরোনাম: কুষ্টিয়ায় আরও ৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত       ব্রাজিলে ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২৯ হাজার করোনা শনাক্ত       যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে ১০৮১ মৃত্যু       রাজশাহী জেলা রেজিস্ট্রার করোনায় পজিটিভ       ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ মোকাবেলায় বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত?       ঝড়ে সুন্দরবনের চরে আটকে গেল পাথর বোঝাই জাহাজ       দেশের ১১ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা       সাধারণ ছুটি পুনরায় বাড়ছে !       ঝিনাইদহে বিক্রয় নিষিদ্ধ ঔষধ জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা       বনমেরু রোগে আক্রান্ত রোজিনা বাচতে চায়      
মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৭তম জন্মদিন আজ
মোতাহার হোসাইন, কেশবপুর :
Published : Saturday, 25 January, 2020 at 6:50 AM
মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৭তম জন্মদিন আজ ‘বহু দেশে দেখিয়াছি বহু নদ-দলে/কিন্তু এ ¯েœহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে?/দুগ্ধ-স্্েরাতরূপী তুমি জন্ম-ভূমি-স্তনে!’ স্বদেশ ও নদীর এমন বন্দনায় পাঠকদের মুগ্ধ করে রাখা মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৭তম জন্মদিন আজ। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পথিকৃৎ ও কবিতায় অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা জমিদার রাজনারায়ণ দত্ত, মা জাহ্নবী দেবী। প্রকৃতির অপূর্ব লীলাভূমি সাগরদাঁড়ি গ্রামে তার শৈশব ও কৈশোর কাটলেও পরে তিনি পরিবার পরিজনের সাথে বসবাস করেন কলকাতার খিদিরপুরে। তবে সাগরদাঁড়ি বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে চলা স্রোতস্বিনী কপোতাক্ষকে তিনি কখনো ভোলেননি। তাই সুদূর ভার্সাই নগরীতে বসেও তিনি লিখেছিলেন ‘সতত হে নদ তুমি পড় মোর মনে, সতত তোমারি কথা ভাবি এ বিরলে’।
তাঁর জন্মদিনে সাগরদাঁড়ির মধুসূদন একাডেমিসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কবির বাবা রাজনারায়ণ দত্ত কলকাতায় ওকালতি করতেন। মা জাহ্নবী দেবী সাধ্বী ও গুণশালিনী রমণী ছিলেন। মধুসূদন বাল্যকালেই মায়ের কাছে রামায়ণ, মহাভারত, চন্ডীর মতো কাব্যছন্দে রচিত হিন্দু পুরাণ সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন। সাগরদাঁড়ি সংলগ্ন শেখপুরা গ্রামের মৌলভি লুৎফুল্লাহ সাহেবের কাছে ফারসি ভাষাও আয়ত্ত করেন তিনি। ১৮৫৩ খ্রিষ্টাব্দে খ্রিষ্টানধর্ম গ্রহণ করেন কবি। তখন থেকে তাঁর নামের সঙ্গে ‘মাইকেল’ যুক্ত হয়।
মধুসূদন দত্ত মাত্র চার-পাঁচ বছর সাহিত্য চর্চা করে বাংলা সাহিত্যকে উর্বর করেছেন। তিনি তিলোত্তমা সম্ভব কাব্য, মেঘনাদবধ কাব্য, ব্রজাঙ্গনা কাব্য, কৃষ্ণকুমারী নাটক, পদ্মাবতী নাটক, একেই কি বলে সভ্যতা ও বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ নামে দু’টি প্রহসন, বীরাঙ্গনা কাব্য ও চতুর্দশপদী কবিতা রচনা করেন। বাংলা সাহিত্যে গাম্ভীর্যপূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক তিনি। ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ জুন কলকাতার আলীপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
সাগরদাঁড়ি মধুসূদন একাডেমির পরিচালক কবি খসরু পারভেজ জানান, কবির জন্মদিন উপলক্ষে সকালে মধুসূদন একাডেমির পক্ষ থেকে মধুপল্লীতে কবির আবক্ষমূর্তিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হবে। এছাড়া সন্ধ্যায় মধুমঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহ: আনোয়ার  হোসেন হাওলাদার। ‘মধুসূদনের জীবন ও সাহিত্য’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেবেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ, যশোর সরকারি এম এম কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম-উদ-দৌলা, সুরধনীর সভাপতি হারুন অর রশীদ, কথা সাহিত্যিক ম্যারিনা নাসরীন, কেশবপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসাইন, কবি মকবুল মাহফুজ, শিক্ষক অনন্ত সরকার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি দু’জন সাহিত্যিকের হাতে এবারের মহাকবি মধুসূদন পদক তুলে দেবেন। রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে।     
অপরদিকে মহাকবির জন্মদিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী প্রদান করেছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেছেন, বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী মাইকেল মধুসূদন দত্তের হাতে বাংলা সাহিত্য পেয়েছে নবরূপ, হয়েছে সমৃদ্ধ ও ঐশ্বর্যমন্ডিত। জন্মভূমির প্রতি কবির গভীর অনুরাগ আগামী প্রজন্মের দেশপ্রেমের চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীতে বলেন, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। কালজয়ী এই সাহিত্যিকের লেখনীতে ফুটে উঠেছে বাঙালির স্বজাত্যবোধ ও স্বাধীনচেতা মনোভাব। তাঁর অনন্য সাহিত্যকর্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।
মধু কবির জন্মবার্ষিকী ও মধুমেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান বলেন, মধুসূদন দত্তের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিদিনই এ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষ সাগরদাঁড়িতে আসছেন। মধুমঞ্চের আলোচনা অনুষ্ঠানে বিজ্ঞ আলোচকরা মহাকবির জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করছেন। মধুপ্রেমী অসংখ্য মানুষ এ সাহিত্যরস আহরণ করছেন।
মধুমেলাকে ঘিরে মধুভক্ত ও পর্যটকদের পদচারণায় কপোতাক্ষ পাড়ের সাগরদাঁড়ি গ্রাম এরই মধ্যে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। 




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft