শিরোনাম: কুষ্টিয়ায় আরও ৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত       ব্রাজিলে ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২৯ হাজার করোনা শনাক্ত       যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে ১০৮১ মৃত্যু       রাজশাহী জেলা রেজিস্ট্রার করোনায় পজিটিভ       ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ মোকাবেলায় বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত?       ঝড়ে সুন্দরবনের চরে আটকে গেল পাথর বোঝাই জাহাজ       দেশের ১১ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা       সাধারণ ছুটি পুনরায় বাড়ছে !       ঝিনাইদহে বিক্রয় নিষিদ্ধ ঔষধ জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা       বনমেরু রোগে আক্রান্ত রোজিনা বাচতে চায়      
চিকিৎসকদের সুরক্ষিত করে যুদ্ধে পাঠাতে হবে
নাজমুল হক :
Published : Thursday, 16 April, 2020 at 10:43 AM, Update: 16.04.2020 11:07:27 AM
চিকিৎসকদের সুরক্ষিত করে যুদ্ধে পাঠাতে হবেদেশে প্রথম এই ভাইরাসে মৃত্যুর মিছিলে যোগ হয়েছে ডা. মঈন। অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসা পদ্ধতি ও নানা অসঙ্গতি নিয়ে। খোদ চিকিৎসকের চিকিৎসায় যদি এমন অভিযোগ উঠে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? বিশে^ মহামারী আকার ধারণ করা আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। মৃত্যুর সংখ্যা প্রতি মুহুর্তে হু হু করে বাড়ছে। চীন, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, স্পেন, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া বাদ যাচ্ছে না কোন দেশ। সারাবিশ্বে দক্ষ ও প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন মানবসম্পদ গড়তে চীন, কানাডা, আমেরিকার অবস্থান রয়েছে শীর্ষে। উন্নত বিশ্বের কাতারে শক্তিমান প্রত্যয়ী ভূখন্ড যুক্তরাস্ট্র, চীন, সুইজারল্যান্ড। উন্নত প্রযুক্তি, চিকিৎসা বিদ্যা থাকার পরেও করোনার ছোবলে তারাই পড়েছে দুমড়ে-মুচড়ে। চীন অনেক ঘাত-প্রতিঘাত ও বহু জীবনের বিনিময়ে প্রাণঘাতী রোগকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে। জাতীয় বীরের বেশে ফিরেছে সে দেশের চিকিৎসকরা। চীনের চিকিৎসকরাও আবার বিশে^র মডেল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। তবে আমরা কেন চিকিৎসা সেবায় এখনও পিছিয়ে আছি?
বাংলাদেশে কোভিড-১৯ পরীক্ষার সাথে সাথে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট ৫০ জন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছে শুধুমাত্র চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়েই। এখানে এখনো কোভিড-১৯ এর কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়নি। দেশে লেভেল-৩ ট্রান্সমিশন চলছে। যারা বিদেশ ফেরত বা বিদেশ ফেরতদের সংস্পর্শে এসেছেন তারাই আক্রান্ত হচ্ছেন। আমাদের দেশে যদি কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়ে ইতালি বা চীনের মতো অবস্থায় যায়, আর সমান তালে চিকিৎসক, নার্সরা আক্রান্ত হতে শুরু করে তাহলে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই হাসপাতালগুলো চিকিৎসক ও নার্স-শূন্য হয়ে যাবে। তারাও আগ্রহ হারাবে চিকিৎসা দিতে। এটি একটি বড় আশঙ্কার ব্যাপার। তখন বিপদের আর শেষ থাকবে না। যার আশনি সংকেত দিয়ে গেছেন ডা. মঈন। কোন মানুষের মৃত্যু আমাদের কাম্য নয়। যারা জীবন বাজী রেখে, পরিবার-পরিজন রেখে মানুষের সেবায় নিয়োজিত থেকেছে শুধুমাত্র পেশাগত ও মানবিকতার স্বার্থে তাদের তো নয়ই।
আমাদের দেশে সব হাসপাতালে একদিকে যেমন চিকিৎসকরা সর্দি কাশি জ্বরের রোগীদের চিকিৎসা দিতে ভয় পাচ্ছে; অন্যদিকে বেশিরভাগ রোগী চিকিৎসা না পাওয়ার ভয়ে বিদেশ ভ্রমণের কথা গোপন করছে। রোগীদের ধারণা বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস থাকলে তারা আর চিকিৎসা পাবে না, প্রকৃতপক্ষে সেটাই ঘটছে। তারা গোপন করছে তাদের শরীরে করোনা উপসর্গ। ফলে তাদের দ্বারাই আক্রান্ত হচ্ছে করোনার সম্মুখ যুদ্ধের বীরেরা।
আমাদের দেশে করোনাভাইরাস যেভাবে বিস্তার করছে তার মেটিভ মোটেও সুখকর নয়। এটা একমাত্র মানুষের সচেতনতা ও চিকিৎসা সেবা ছাড়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। করোনাভাইরাস যেহেতু হাচি-কাশির মাধ্যমে বা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে ছড়ায় তাই চিকিৎসকরাও নিরাপদ নয়। চিকিৎসার সাথে জড়িন নার্স, ব্রাদার, ওয়ার্ড বয় কেহও নিরাপদ বোধ করছে না। লেভেল-১ প্রোটেকশনে সার্জিক্যাল মাস্ক, ডিসপোজেবল গ্লাভস, সার্জিক্যাল ক্যাপ, ওয়ার্কিং ইউনিফর্ম সরবরাহ করতেই হবে। তাদের মনোবল বাড়াতে হবে।
কোয়ারিন্টিনে যে সকল চিকিৎসক, সেবিকা-সেবকসহ সংশ্লিস্টরা সেবা প্রদান করছেন তাদের প্রণোদনার ঘোষনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন। দেশের এই জাতীয় দুর্যোগ থেকে তারাই কান্ডারীর ভুমিকা পালন করবে। চাকরি সকল সেক্টরে করে কিন্তু চিকিৎসক-নার্সরা তাদের জীবন বাজি রেখে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে আমাদের জীবন রক্ষা করছে। আমরা যখন পরিবার-পরিজন নিয়ে সুন্দর সোফায় বসে টিভিতে নিউজ দেখছি ঠিক তখনই প্রতি মুহুর্তে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থেকে চিকিৎসকরা দিন-রাত নিরন্তন পরিশ্রম করে এগিয়ে যাচ্ছে ছন্দের বাংলাদেশ উপহার দিতে। প্রেসার দিয়ে নয়; প্রেষণা দিয়ে কাজ আদায় করতে হবে। প্রয়োজনে রাষ্ট্র থেকে সর্বোচ্চ প্রেষণার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতি মুহুর্তে সম্মুখ যুদ্ধের যোদ্ধাদের রসদ সংগ্রহ করতে হবে।
আজকে করোনার বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। কিন্তু অস্ত্র ছাড়া যুদ্ধ করতে পাঠান তো কোন মানুষকে, একটা হেলমেট ছাড়া যাবে কেউ যুদ্ধ ক্ষেত্রে? তাহলে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা কীভাবে চিকিৎসা করবে? আমাদের ডাক্তাররা তো চিকিৎসা দিচ্ছেন, যুদ্ধে আহত হচ্ছে, প্রাণও দিচ্ছে। তাদের সুরক্ষিত করে চিকিৎসার যুদ্ধে পাঠাতে হবে।
ডা. মঈন জানান দিয়েছে এই যুদ্ধে চিকিৎসকরা সুরক্ষিত নয়। প্রতিটি মুহুর্তে মৃত্যু হাতছানি দিচ্ছে। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন কিছু বার্তা আমাদের সামনে এসেছে। আক্রান্ত হওয়ার পরে তাকে কেন হাসপাতালে রাখা হয়নি? কেন ঢাকায় আনা হয়নি? কেন বাড়িতে রেখে চিকিৎসা করা হলো? রাষ্ট্র কি আরো দায়িত্বশীল হতে পারতো না জাতীয় এই বীরের জন্য? সরকারের প্রতি চিকিৎসকদের আস্থা বাড়ানোটা বেশি জরুরী। চিকিৎসকদের হাত ধরেই আবারও ভয়-শঙ্কার আধার কেটে আলো আসবেই।

লেখক: প্রাক্তন খুলনা বিভাগীয় সিনিয়র রোভার মেট প্রতিনিধি, উত্তর কাটিয়া, সাতক্ষীরা ০১৭৭২৮৭৬৭৪৪




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft