শিরোনাম: কিচু পাতি চাও, কোচ্চের লোক হও        খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে জমজ দু’ভাইয়ের মৃত্যু       যশোরে করোনায় নতুন শনাক্ত দু’জন       ইজিবাইকে তিনজনের বেশি যাত্রী নয়       মণিরামপুরের নতুন ইউএনও সৈয়দ জাকির হাসান       মাগুরায় আরও তিনজন করোনায় আক্রান্ত       করোনা উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে নারীর মৃত্যু       ফেসবুক লাইভে সুকুমার দাসের সুরের মায়াজালে        কুষ্টিয়ায় আরও ৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত       ব্রাজিলে ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২৯ হাজার করোনা শনাক্ত      
আম্পানে সাত জেলায় ২২ জনের মৃত্যু
যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল লন্ডভন্ড
কাগজ ডেস্ক
Published : Friday, 22 May, 2020 at 1:52 AM

যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল লন্ডভন্ডপ্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় আম্পান যশোরসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এবং উপকূলীয় এলাকায় প্রলয় ঘটিয়ে গেছে। লন্ডভন্ড হয়ে গেছে সবকিছু। এতে যশোরসহ সাত জেলায় ২৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিৎ করেছে। এরমধ্যে যশোরে রয়েছেন ১০ জন। সাতক্ষীরা, কয়রা, পাইকগাছায় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে ফসল ও মাছের ঘেরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে আম, জাম, লিচু, জামরুলসহ এ মৌসুমের যাবতীয় ফলের। ঝড়ে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন কোটি গ্রাহক। বিপর্যয় ঘটেছে নেটওয়ার্কেও।
তীব্র ঝড়ো বাতাস আর বৃষ্টি ঝড়িয়ে সাগর থেকে উপকূলে উঠেছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। এর মূল চোখ ভারতের দিকে। তবে বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা ও সুন্দরবন অংশের ওপর তোপ দাগার পর আম্পানের বাংলাদেশ অংশটি উঠে গেছে স্থলভাগে। উপকূল না হলেও লন্ডভন্ড হয়েছে যশোর। এটি এখন উত্তরবঙ্গে। অন্যদিকে, অন্য উপকূলীয় জেলাগুলোতে ঝড়ের তীব্রতা খুব বেশি না হলেও বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে যশোরে গাছ চাপা পড়ে মা-মেয়েসহ তিন নারী নিহত হয়েছেন। পটুয়াখালীতে ঝড়ে গাছ চাপা পড়ে ও মানুষকে সচেতন করতে গিয়ে নৌকাডুবিতে দু’জন মারা গেছেন। ভোলায় গাছচাপা পড়ে ও ট্রলারডুবে দুই জন মারা গেছেন। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়াতে দেয়াল চাপা পড়ে মারা গেছেন আরেক ব্যক্তি। আর সাতক্ষীরা সদরে আম কুড়াতে গিয়ে গাছ চাপায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। চাঁদুপুরেও আম কুড়াতে গিয়ে একজন মারা গেছেন।   
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সাগরের নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে বুধবার সন্ধ্যায় ৫ থেকে ৭ ফুট জোয়ার হয়েছে। ভারী বৃষ্টি হয়েছে প্রায় সারারাতই। সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, ঝড়ের মধ্যে আম কুড়াতে গিয়ে সদরের শহরের বাঁকাল এলাকায় শামসুর রহমান (৬০) ও কামালনগর সঙ্গীতা মোড়ে করিমন নেছা (৪০) নামে দু'জনের মৃত্যুর খবর নিন্ডিত হওয়া গেছে।
ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে সাতক্ষীরা শ্যামনগরের উপকূলীয় অঞ্চল, আশাশুনি ও সাতক্ষীরা সদরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কাঁচাঘর বাড়ি মৎস্যঘের ও ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে। আশাশুনির ৬টি পয়েন্ট ও শ্যামনগরের একটি পয়েন্টে বেঁড়িবাধ ভেঙে বিস্তীর্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
গাবুরা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আম্পানে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে পুরো গাবুরা ইউনিয়ন। আমার বাড়ির অধিকাংশ গাছ পড়ে গেছে। এই ঝড়ে আমাদের কংক্রিটের প্রাচীর পর্যন্ত পড়ে গেছে। সেই বিকাল থেকে ঝড় শুরু হয়েছে একটানা গভীর রাত পর্যন্ত চলছে।
শ্যামনগরের গাজী আল ইমরান নামে এক স্বেচ্ছাসেবক বুড়িগোয়ালীনির ইউনিয়নের দাতানিখালি এলাকায় বেড়িবাঁধে ভাঙনের বিষয়টি নিন্ডিত করেন।
প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে নদীতে জোয়ার বৃদ্ধির কারণে প্রতাপনগরের কুড়ি কাউনিয়া, সুভদ্রা কাটি, চাকলা, হাজরাখালি পয়েন্টে বেঁড়ি বাধ লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে।
ভোলায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়ে গাছের নিচে চাপা পড়ে ছিদ্দিক ফকির (৭০) ও ট্রলারডুবিতে রফিকুল ইসলাম নামের দুই জনের মৃত্যু হয়েছে।
আম্পানের প্রভাবে যশোরে প্রবল ঝড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছ-পালা উপড়ে পড়েছে। চৌগাছা উপজেলার চানপুর গ্রামে ঘরের উপর গাছ পড়ে এক নারী ও তার মেয়ে নিহত হয়েছেন। বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন চানপুর গ্রামের মৃত ওয়াজেদ হোসেনের স্ত্রী খ্যান্ত বেগম (৪৫) ও তার মেয়ে রাবেয়া (১৩)। অপরদিকে শার্শার বাঁগআচড়া ইউনিয়নে
এছাড়া বাঘারপাড়া উপজেলার বুদোপুরে আমগাছ ভেঙে ঘরে পড়ে। এতে চাপা পড়ে মারা যান সাত্তার মোল্লার স্ত্রী ডলি বেগম (৪৮)।
যশোরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আম্পানের কেন্দ্র রাত সাড়ে ১০টা থেকে যশোরের পশ্চিম দিয়ে অতিক্রম শুরু করে। আম্পানের প্রভাবে সন্ধ্যা ৭টা থেকে ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। এরপর আস্তে আস্তে তা বাড়তে থাকে। রাত ১২টায় সর্বশেষ বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ১৩৫ কিলোমিটার।
চট্টগ্রামে ঘূর্ণিঝড় আম্পান আঘাত হানার আগেই জোয়ারের পানিতে ডুবে মো. সালাউদ্দিন (১৮) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২০ মে) দুপুরে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার পৌর সদরের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদর্শী সম্বৌধি চাকমা এ তথ্য নিন্ডিত করেছেন। উপকূলে ঘাস কাটতে গিয়ে সালাউদ্দিন জোয়ারের পানিতে পড়ে যান বলে তিনি জানান।
বাগেরহাট প্রতিনিধি জানিয়েছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বগী এলাকার বেরিবাঁধ ভেঙে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত ছাড়া আর কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি । জেলা সদরসহ সবকটি উপজেলা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে। জোয়ার ও বৃষ্টির পানিতে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ঝড়ে বাংলাদেশের কয়েকটি জেলা থেকে মৃত্যুর খবর এসেছে। বহু গাছপালা ও ঘরবাড়ি উপড়ে যাওয়ার খবরও এসেছে। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে উপকূলের ১০ লাখ মানুষ।
জোয়ারের সময় ৪-৫ ফুট উচ্চতায় পানি ওঠায় সাতক্ষীরা ও কয়রাসহ কয়েক জায়গায় বাঁধ ভেঙেছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মহসীন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা অনেকটা সেইফ হয়ে গেছি এবার। সরাসরি আমাদের দিকে এলে ক্ষতি বেশ হত। ধীরে ধীরে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত চিত্র পাওয়া যাবে।
আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানান, আম্পান বুধবার রাতে বাংলাদেশ উপকূলে প্রবেশ করে। সন্ধ্যা ৭ টায় সাতক্ষীরায় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৫১ কিলোমিটার। যশোর-ঝিনাইদহ পেরিয়ে এটি এখন দেশের উত্তরাঞ্চেলে স্থল নিম্নচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। দিনভর এর প্রভাবে বৃষ্টি থাকবে। আরও বৃষ্টি ঝরিয়ে উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে হতে তা অস্তিত্ব হারাবে।
ওমর ফারুক বলেন, উপকূলীয় এলাকায় এখনও ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। সেই সঙ্গে আমাবস্যার প্রভাব ও বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে কোথাও কোথাও স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ থেকে ৬ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আম্পানের প্রভাবে সকাল ৬টা ২৪ ঘণ্টায় চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ঈশ্বরদীতে রেকর্ড করা হয়েছে ১৬০ মিলিমিটার, ঢাকায় ৭৪ মিলিমিটার।
শুক্রবার সকাল ৯ টা পর্যন্ত রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে ভারি (৪৪-৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারি বর্ষণ (৮৯ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টি হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে অধিদপ্তর।
ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে খুলনার নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভরা জোয়ারের সময় কয়রা উপজেলায় বেড়িবাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করেছে। পানির চাপে পাইকগাছা ও কয়রায় বেড়িবাঁধের দুটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা মাটি ফেলে ভাঙন রোধ করেছেন।
পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুলিয়া সুকায়না বলেন, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সাড়ে ৭ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। আম্পান আসার আগেই নদীর পানি বেড়েছে। তাই নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষকে যেকোনও প্রক্রিয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিমুল কুমার সাহা বলেন, মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। কয়রা জুড়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
খুলনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজিজুল হক জোয়ার্দার বলেন, যারা আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করবেন তাদেরকে দু’বেলা খাবার দেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খিচুড়ির ব্যবস্থা করবেন।
জানা গেছে, কয়রা উপজেলার কয়রা সদর, উত্তর বেদকাশী এবং দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের কয়েক জায়গা দিয়ে বেড়িবাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করেছে। স্থানীয় মানুষ বেড়িবাঁধের ওপর মাটি দিয়ে পানি আটকানোর চেষ্টা করেন।
পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নে বয়ারঝাপায় এলাকায় ওয়াপদা বাধে ভাঙন শুরু হয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান এস এম এনামুল হক তাৎক্ষণিভাবে লোকজন নিয়ে মাটি ফেলে ভাঙন রোধে কাজ করেন।
চেয়ারম্যান এনামুল হক বলেন,  বুধবার সকালে ভাঙন দেখা দেওয়ার খবর পেয়ে দ্রুততার সঙ্গে ইউপির আপদকালিন তহবিল থেকে অর্থ নিয়ে ভাঙন ঠেকাতে মাটি ফেলা হয়।
তিনি আরও বলেন, এলাকাবাসীকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে নানমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করতে হচ্ছে। ১২টা আশ্রয়কেন্দ্রের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ ও সোলাদনা মাধ্যমিক বিদ্যালয় নিয়ে ১৪টি স্থানে ইতোমধ্যে ৬০০ মানুষকে আনা সম্ভব হয়েছে।
কয়রা সদর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড মেম্বর হরেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, মঙ্গলবার দুপুরের জোয়ারের পানি বাঁধ উপচে কাটকাটা গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবেশ করে। পরে লোকজন মাটি দিয়ে পানি প্রবেশ আটকায়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আম্পান উপকূলে আঘাত হানার আগেই খুলনার নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উপকূলীয় উপজেলা পাইকগাছা, দাকোপ এবং কয়রা এলাকায় পানির স্বাভাবিক মাত্রার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পশুর নদীতে পানি প্রবাহের মাত্রা রয়েছে ২.৭৯ মিটার। এ নদীর স্বাভাবিক মাত্রা ২ দশমিক ৪৪ মিটার। আর খুলনা শহরের রূপসা নদীতে প্রবাহিত পানির সীমা রয়েছে ২.৫২ মিটার।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, কয়রা উপজেলার বেড়িবাঁধই বেশি নাজুক। জলোচ্ছ্বস না হলে বাঁধ ক্ষতিগুন্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। আম্পানের প্রভাবে জোয়ারের সময় নদীতে পানি বাড়ছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১০ লাখের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া ঝড়ো হাওয়ার প্রভাবে গাছ পড়ে, তার ছিঁড়ে পড়াসহ বিভিন্ন কারণে ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যে উপকূলে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অন্তত ১৭টি সমিতির এসব গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর বাইরে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি বা ওজোপাডিকোর অন্তত ৪০ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন মেরামতের প্রয়োজনীয় প্রন্তুতি রয়েছে জানিয়ে বিতরণ সংস্থাগুলো বলছে, ঝড় থেমে গেলে বৃহস্পতিবার বিকালের মধ্যে মেরামত করে সংযোগগুলো চালু করতে পারবে তারা।
আরইবির সদস্য (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অনজন কান্তি দাশ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশালের কিছু অংশ, বাগেরহাট, পিরোজপুর, সাতক্ষীরাসহ উপকূলের ১৭টি সমিতির ৫০ থেকে ৬০ ভাগ লাইন বন্ধ হয়ে গেছে।
সংখ্যার বিচারে ১০ থেকে ১২ লাখ গ্রাহকের সংযোগ বন্ধ হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। এগুলো আমরা বন্ধ করিনি, ঝড়ের কারণে বন্ধ হয়েছে। অনেক জায়গায় বড় বড় গাছ পড়েছে, অনেক স্থানে তার ছিঁড়েছে।
বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া এখনও অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা এখনও ক্ষতি নিরূপণ করতে পারিনি। তবে মনে হয়, বুলবুলের মতো ক্ষয়ক্ষতি নাও হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় অনেকটা দুর্বল হয়ে আসছে বলে মনে হচ্ছে। যা কিছু ক্ষতিগ্রন্ত হোক না কেন আগামীকাল বিকালের মধ্যে সমাধান করতে পারব।”
ওজোপাডিকোর প্রকৌশল শাখার নির্বাহী পরিচালক আবুল হাসান জানান, বিকাল নাগাদ আলমডাঙা, মেহেরপুর, বরগুনা, পায়রা, চরফ্যাশনের প্রায় ৪০ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ঝড়ে খুলনা, মাগুরা, যশোর অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষয়তি কম হলেও পায়রা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা এলাকায় বেশ ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আমরা সেই অনুযায়ী প্রন্তুতি নিয়ে রেখেছি। তবে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, আগে জীবন রক্ষা করতে হবে। উদ্ধার তৎপরতা চালাতে গিয়ে কোনো প্রাণহানি কাম্য নয়।
২০০৭ সালে সিডরের সময় নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আবুল হাসান বলেন, তখন সন্ধ্যার দিকে ঝড় শুরু হয়ে রাতভর ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। ভোর থেকে সংস্কার কাজ শুরু করে আমরা দুপুর নাগাদ বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পেরেছিলাম।
প্রতি বছরই আমরা এ ধরনের ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলা করে অভ্যন্ত। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে তা বিবেচনায় নিয়ে বেশ কিছু প্রন্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি যে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ বাংলাদেশের ওপর অতটা হবে না। তারপরেও খুলনা, বাগেরহাট, সুন্দরবন অঞ্চলের বিতরণ সংস্থাকে সতর্ক রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ঝড়ের প্রকোপ থেকে রক্ষায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য সংশ্লিষ্টদের বলে দেওয়া হয়েছে।   




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft